আর্মেনিয়ার সাম্প্রতিক সময়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক দল গ্রীষ্মকালীন নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। দলটি দেশের মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গ নারীদের যৌন অসন্তোষকে রাজনৈতিক সক্রিয়তার মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরে এবং এই সমস্যার সমাধানে বিশেষ মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে।
‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সারগিস কারাপেতিয়ান বলেন, নারীদের যৌন সন্তুষ্টি না হওয়ায় তারা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশি অংশগ্রহণ করছে। তিনি যুক্তি দেন, এমন একটি মন্ত্রণালয় গঠন করলে নারীর যৌন অধিকার রক্ষা হবে এবং একইসঙ্গে দেশের হ্রাসমান জন্মহার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
মন্ত্রণালয় গঠনের ধারণা প্রথমে আর্মেনীয় সমাজবিজ্ঞানী আর্মেন খাচিকিয়ান উপস্থাপন করেন। তিনি একটি পডকাস্টে উল্লেখ করেন, নারীর যৌন অসন্তোষই তাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার পেছনের প্রধান প্রেরণা। এই মতামতকে ভিত্তি করে ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ দলটি প্রস্তাবটি জনসমক্ষে তুলে ধরেছে।
দলটি সামভেল কারাপেতিয়ানের গ্রেপ্তারের পরই গঠিত হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই পার্টি তার রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামভেলের ভাতিজা নারেক কারাপেতিয়ানকে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে জনমত সমীক্ষা দেখায়, ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ প্রায় ১৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে, যা তাকে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে অবস্থান দিয়েছে। ক্ষমতায় থাকা সিভিল কন্ট্র্যাক্ট পার্টি ১৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছে, আর প্রায় অর্ধেক ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন।
মন্ত্রণালয় গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে বিতর্ক চলমান। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, যৌন বিষয়কে আলাদা মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া কি বাস্তবিক সমস্যার সমাধান করবে, নাকি কেবল রাজনৈতিক চিত্রায়নের একটি কৌশল। অন্যদিকে, সমর্থকরা জোর দেন, নারীর যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতি সরাসরি জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।
এই প্রস্তাবের ফলে নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন আলোচনার বিষয় যোগ হয়েছে। যদি মন্ত্রণালয় গঠন বাস্তবায়িত হয়, তবে তা সরকারী নীতি, বাজেট এবং সামাজিক সচেতনতায় নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে, অন্যান্য দলগুলোও এই বিষয়কে তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ পার্টির সেক্স মন্ত্রণালয় প্রস্তাব দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি অপ্রচলিত বিষয় নিয়ে আলোচনা উন্মুক্ত করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।



