শান্তা ডেভেলপার সম্প্রতি বানানির রোড ২১ ও রোড ১৮-এ শান্তা অবিরা ও শান্তা সেলেস্টিয়াল নামে দুটো উচ্চমানের আবাসিক প্রকল্প সম্পন্ন করেছে। এই প্রকল্পগুলো বানানির ঐতিহ্যবাহী শান্ত পরিবেশকে আধুনিক সুবিধা ও সবুজায়নের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। বানানি, যা ১৯৯০-এর আগে দুইতলা বাড়ি ও গাছের ছায়ায় গড়ে উঠা একটি শান্ত পাড়া, এখন শহরের দ্রুত বর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চমানের বাসস্থান পেতে চলেছে।
বানানির নগর বিকাশের ইতিহাসে ধানমন্ডি, গুলশান ও বানানি প্রত্যেকটি আলাদা ধারা উপস্থাপন করেছে। ধানমন্ডি পরিকল্পিত আধুনিকতা, গুলশান কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র, আর বানানি শান্তি ও সুবিধার সমন্বয়স্থল হিসেবে পরিচিত। শান্তা ডেভেলপার এই ঐতিহ্যকে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করে, যেখানে প্রকল্পের নকশা ও গুণমানকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
শান্তা সেলেস্টিয়ালের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল মার্বেল ও ধাতুর সমন্বয়ে গঠিত সীমানা প্রাচীর, যা ঘন সবুজ গাছপালার সঙ্গে মিশে একটি স্বতন্ত্র দৃশ্য তৈরি করে। প্রাচীরের পেছনে স্তরভিত্তিক ল্যান্ডস্কেপিং ও শান্তিপূর্ণ জলপ্রপাতের মাধ্যমে প্রবেশদ্বারকে আলাদা করা হয়েছে, যা দ্বিগুণ উচ্চতার প্রবেশপথে পৌঁছায়। এই নকশা প্রথম দর্শনে প্রকল্পের গুরত্বপূর্ণতা প্রকাশ করে এবং বাসিন্দাদের জন্য একটি স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলে।
অভ্যন্তরীণ অংশে ফ্লোর-টু-সিলিং গ্লাসের মাধ্যমে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করে, যা লবি এলাকাকে উজ্জ্বল ও প্রশস্ত করে তুলেছে। আলো ও স্থান ব্যবহার করে অভ্যন্তরকে বাহ্যিক পরিবেশের সঙ্গে সুনিপুণভাবে যুক্ত করা হয়েছে, ফলে বাসিন্দারা ঘরের ভেতরে ও বাইরে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেন। লবিতে একটি তরল বৈশিষ্ট্যযুক্ত ফিচার ওয়াল ও ভাসমান আর্কিটেকচারাল উপাদান যুক্ত করা হয়েছে, যা আধুনিক নান্দনিকতার উদাহরণ দেয়।
শান্তা অবিরা, রোড ২১-এ অবস্থিত, একইভাবে সবুজায়ন ও গুণগত মানের উপর জোর দেয়। প্রকল্পের চারপাশে পরিকল্পিত পার্ক, হাঁটার পথ ও শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার জায়গা তৈরি করা হয়েছে, যা পরিবারিক জীবনকে সমর্থন করে। এই ধরনের সুবিধা বানানির রিয়েল এস্টেট বাজারে উচ্চ চাহিদা তৈরি করেছে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতাদের মধ্যে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বানানির মতো প্রিমিয়াম পাড়া গুলিতে সবুজায়ন ও আধুনিক অবকাঠামোর সমন্বয় রিয়েল এস্টেট মূল্যের স্থায়ী বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। শান্তা ডেভেলপারের এই প্রকল্পগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত, কারণ তারা দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ সুরক্ষা ও ভাড়া আয়ের সম্ভাবনা প্রদান করে।
শান্তা ডেভেলপারের এই উদ্যোগগুলো বানানির বাসিন্দা গোষ্ঠীর জীবনধারায় পরিবর্তন আনছে। পূর্বে গাছের ছায়ায় খেলা করা শিশুরা এখন আধুনিক নিরাপত্তা ও সুবিধা সহ পরিবেশে বেড়ে উঠবে। একই সঙ্গে, প্রকল্পের নকশা ও গুণমানের মানদণ্ড অন্যান্য ডেভেলপারদের জন্য উদাহরণস্বরূপ হয়ে উঠতে পারে, যা পুরো শহরের আবাসিক মানকে উন্নত করবে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বানানিতে সবুজায়ন ও উচ্চমানের নির্মাণের চাহিদা বাড়তে থাকবে। শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও গৃহস্থালী আয়ের উন্নতি এই ধরনের প্রকল্পের জন্য বাজারের ভিত্তি শক্তিশালী করে। তবে, জমির দাম ও নির্মাণ খরচের বৃদ্ধি ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যায়, যা ডেভেলপারদের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা কঠোর করতে বাধ্য করবে।
সারসংক্ষেপে, শান্তা ডেভেলপারের শান্তা অবিরা ও শান্তা সেলেস্টিয়াল বানানির রিয়েল এস্টেট বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। প্রকল্পগুলোর নকশা, সবুজায়ন ও আধুনিক সুবিধা বাসিন্দা ও বিনিয়োগকারীদের উভয়েরই আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে, যা ভবিষ্যতে শহরের আবাসিক উন্নয়নের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



