24 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাষ্ট্রের জেডি ভ্যান্সে সমালোচনামূলক খনিজের জন্য পছন্দসই বাণিজ্য গোষ্ঠীর পরিকল্পনা উন্মোচন

যুক্তরাষ্ট্রের জেডি ভ্যান্সে সমালোচনামূলক খনিজের জন্য পছন্দসই বাণিজ্য গোষ্ঠীর পরিকল্পনা উন্মোচন

যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সে বুধবার ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মন্ত্রীদের সমাবেশে সমালোচনামূলক খনিজের জন্য একটি পছন্দসই বাণিজ্য গোষ্ঠীর ধারণা উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, চীনকে সরাসরি নাম না করেও, সস্তা খনিজের প্রবাহকে বাধা দিয়ে দেশীয় উৎপাদনকে রক্ষা করা লক্ষ্য।

ভ্যান্সের মতে, গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলোকে উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে রেফারেন্স মূল্য নির্ধারণ করতে হবে এবং ঐ মূল্যকে ন্যূনতম স্তরে রাখার জন্য সমন্বয়যোগ্য শুল্ক প্রয়োগ করা হবে। এতে বাজারে দাম হ্রাসের ঝুঁকি কমে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

মার্কিন সরকার চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে সমালোচনামূলক খনিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ বাড়িয়ে চলেছে। গত বছর চীন যখন রেয়ার আর্থের রপ্তানি সীমিত করেছিল, তখন আমেরিকান গাড়ি ও অন্যান্য শিল্পে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়।

সেই প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন “প্রজেক্ট ভল্ট” নামে একটি কৌশলগত মজুদ গঠন করেছে। এই মজুদকে $10 বিলিয়ন মার্কিন রপ্তানি-আমদানি ব্যাংকের প্রাথমিক তহবিল এবং $2 বিলিয়ন বেসরকারি বিনিয়োগের সমর্থন রয়েছে।

বহুপাক্ষিক আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনে মোট 55টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া এবং কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত, যাদের প্রত্যেকেরই খনিজ শোধন বা উত্তোলনের কিছু ক্ষমতা রয়েছে।

রুবিও জোর দিয়ে বলেন, এই খনিজগুলো একক দেশের হাতে অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত, যা ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও চীনকে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে তার আধিপত্যের প্রভাব স্পষ্ট।

বাণিজ্য প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বে থাকা জেমিসন গ্রীরও সভায় একটি দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলোকে সমন্বিত মূল্য নীতি অনুসরণ করতে হবে এবং শুল্কের মাধ্যমে তা বজায় রাখতে হবে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে রেফারেন্স মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি ও শুল্কের সমন্বয় প্রক্রিয়া গঠন করা হবে। এরপর সদস্য দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব উৎপাদন ও শোধন ক্ষমতা অনুযায়ী গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠা সমালোচনামূলক খনিজের সরবরাহ চেইনে বৈচিত্র্য আনবে এবং চীনের একচেটিয়া অবস্থানকে দুর্বল করবে। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

মার্কিন সরকার ইতিমধ্যে গোষ্ঠীর কাঠামো নির্ধারণের জন্য বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেফারেন্স মূল্য নির্ধারণে কাজ করছে। এই উদ্যোগের জন্য অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজনীয়তা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর স্বার্থের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ভবিষ্যতে গোষ্ঠীর কার্যক্রমের পরিধি বাড়িয়ে, আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন খনিজ উৎপাদনকারী দেশকে যুক্ত করা হতে পারে।

গোষ্ঠীর সাফল্য নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত নীতি গ্রহণ, শুল্কের সঠিক ব্যবহার এবং রেফারেন্স মূল্যের স্বচ্ছতার ওপর। যদি এই শর্তগুলো পূরণ হয়, তবে সমালোচনামূলক খনিজের বাজারে চীনের প্রভাব কমে আন্তর্জাতিক শিল্পের বিকাশে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments