ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জামাতের সর্বশেষ ইশতেহার ২০২৬ নির্বাচনের আগে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রের বেশ কয়েকটি মূল প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উচ্চমূল্যের ক্যানসার চিকিৎসার জন্য বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে রোগীর আর্থিক বোঝা কমে এবং প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়। এছাড়া, শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট নীতি বা বাজেটের বিশদ প্রকাশ করা হয়নি।
প্রস্তাবিত ক্যানসার চিকিৎসা আর্থিক সহায়তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারী তহবিল, বেসরকারি দান এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে রোগীর চিকিৎসা খরচের একটি অংশ কভার করা হবে। এই ব্যবস্থা চালু হলে, গড়ে ১.৫ কোটি টাকার বেশি খরচের ক্যানসার রোগী সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবে বলে জামাতের নেতৃত্ব দাবি করেছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলোতে, জামাতের ইশতেহারে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুল অবকাঠামো আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং গ্রামীণ এলাকায় নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। তবে, নির্দিষ্ট সংখ্যা বা বাজেটের উল্লেখ না থাকায়, এই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা স্পষ্ট নয়।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, আওয়ামী লীগ ইশতেহারের কিছু বিষয়কে অপ্রতিষ্ঠিত এবং আর্থিক দিক থেকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, ক্যানসার চিকিৎসার জন্য বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের উৎস স্পষ্ট না হলে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হবে। তদুপরি, শিক্ষা ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতি না থাকলে, শুধুমাত্র রূপকথা হিসেবে গণ্য হতে পারে, এ কথাও তারা যুক্তি দিয়েছে।
জামাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এই প্রতিশ্রুতিগুলো ভোটারদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য তৈরি, এবং সরকারী তহবিলের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, ক্যানসার রোগীর আর্থিক সহায়তা পরিকল্পনা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকরা ইশতেহারের এই দিকগুলোকে আগামী নির্বাচনে জামাতের ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণের কৌশল হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে উচ্চ ব্যয়বহুল রোগের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করলে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে সমর্থন বাড়তে পারে। তবে, বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা এবং আইনগত কাঠামোর অভাব হলে, এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা কঠিন হতে পারে।
অবশেষে, ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য সরকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, তহবিল সংগ্রহের পদ্ধতি এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার গঠন প্রয়োজন। যদি জামাতের দল এই পরিকল্পনাগুলোকে কার্যকর করে, তবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে এবং নির্বাচনী প্রভাব বাড়তে পারে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের সমালোচনা এবং বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলোকে অতিক্রম না করলে, এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে শুধুমাত্র নির্বাচনী রেটোরিক্যালি হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।



