সোভাবনা মোস্তারি, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যাটস্ম্যান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠিন সূচনা কাটিয়ে সাম্প্রতিক আইসিসি ইভেন্টে ধারাবাহিকতা ও আক্রমণাত্মক শৈলীর প্রমাণ দিয়েছেন। তার পারফরম্যান্সের সঙ্গে দলটি নেপালে অনুষ্ঠিত আইসিসি উইমেন্স টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ কোয়ালিফায়ারে সাতটি ম্যাচে অপরাজিত থেকে এই বছরের টুর্নামেন্টে সরাসরি স্থান নিশ্চিত করেছে। কোয়ালিফায়ার শেষে মোস্তারি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে তালিকায় শীর্ষে ছিলেন।
কোয়ালিফায়ার পর্যায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সব সাতটি ম্যাচ জিতে শূন্য হারে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। প্রতিটি ম্যাচে দলটি ১৫০ রানের বেশি স্কোর করে প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখে, ফলে ব্যাটিং ইউনিটের আত্মবিশ্বাস দৃঢ় হয়। এই ধারাবাহিকতা দলকে আইসিসি উইমেন্স টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপের মূল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিশ্চিত করেছে।
মোস্তারির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ২০১৮ সালে শুরু হলেও প্রথম দুই বছর তার প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সের থেকে দূরে ছিল। তার প্রথম বিশটি ইনিংসে তিনি প্রায়ই ষষ্ঠ বা সপ্তম ক্রমে ব্যাটিং করতেন, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বড় শট মারার সুযোগ পেতেন না। বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেললেও উল্লেখযোগ্য স্কোর তৈরি করতে পারছিলেন না, যা তার মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছিল।
“আমি বুঝতে পারলাম, যদি আমার জীবন বদলাতে চাই, তবে আমাকে নিজেই বদলাতে হবে,” মোস্তারি বলেন। তিনি স্বীকার করেন যে শুরুর দিনগুলোতে নিজের এবং দলের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল, তবে বড় দলগুলোর সঙ্গে ম্যাচের অভিজ্ঞতা তাকে ধীরে ধীরে রানের স্বাদ নিতে সাহায্য করে।
বেটিং অর্ডার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তার ক্যারিয়ারে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মোস্তারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চতর ক্রমে ব্যাটিং করার অনুমতি পান, ফলে তিনি বেশি বলের মুখোমুখি হন এবং আক্রমণাত্মক শটের সুযোগ পান। এই পরিবর্তনের পর থেকে তার রান সংগ্রহে ধারাবাহিকতা দেখা যায়। “যদি আমি উপরের ক্রমে খেলতে পারি এবং বেশি বলের মুখোমুখি হতে পারি, তবে আমার গেমে পরিবর্তন আসবে,” তিনি জানান।
তবু তিনি উল্লেখ করেন যে এখনো তার ব্যাটিং পজিশন স্থায়ী নয়। “শুরুতে প্রায় ১৫-২০টি ম্যাচে আমি বিভিন্ন ক্রমে খেলেছি,” মোস্তারি বলেন, যা তার জন্য চ্যালেঞ্জের অংশ ছিল। তবে নতুন পজিশনে ধারাবাহিক রান তৈরি করতে পারা তাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যাটিং ইউনিটের পূর্বের সমস্যাগুলোও স্পষ্ট। ভালো পিচেও দলটি প্রায়ই ১১০ রানের নিচে আটকে থাকত, যা বলারদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করত। তবে কোয়ালিফায়ার সময় ধারাবাহিকভাবে ১৫০ রানের বেশি স্কোর করতে পারা দলের মনোভাবকে শক্তিশালী করেছে।
মোস্তারি বলেন, “যখন ব্যাটিং ইউনিট উচ্চ স্কোর করতে পারে, তখন আমাদের বোলাররা মানসিকভাবে স্বস্তি পায় এবং তারা স্বাধীনভাবে বল দিতে পারে।” এই মানসিক শান্তি দলকে প্রতিপক্ষের আক্রমণকে সামলাতে সহায়তা করেছে এবং ফলস্বরূপ জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
সোভাবনা মোস্তারির ব্যক্তিগত পরিবর্তন এবং দলীয় পারফরম্যান্সের উন্নতি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। তার আত্মবিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় দলকে শক্তিশালী করেছে, যা আইসিসি উইমেন্স টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপের মূল টুর্নামেন্টে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আগামী সপ্তাহে দলটি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে তারা শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি হবে এবং নতুন উচ্চতা অর্জনের লক্ষ্য রাখবে।



