ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জামাতের নেতা চরমোনাইর পীর রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান বিতর্কের কেন্দ্রে আছেন। তিনি দাবি করেছেন যে মার্কিন দূতাবাসে তাদের সংগঠনকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পীরের এই মন্তব্য ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, যেখানে তিনি এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
পীরের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন দূতাবাসের কিছু কর্মকর্তার দ্বারা জামাতের সদস্যদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই অভিযোগগুলো কোনো প্রমাণভিত্তিক তদন্তের ফল নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে। পীরের মতে, এই ধরনের উপস্থাপনায় জামাতের রাজনৈতিক বৈধতা ও জনমত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জামাতের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলি পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতির বিরোধিতা করে আসছে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে। গত কয়েক বছর ধরে মার্কিন সরকার কিছু বাংলাদেশি সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে, যদিও জামাতের ওপর সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকাভুক্তি হয়নি। পীরের এই মন্তব্যকে এই দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার একটি নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনো সরাসরি উত্তর পাওয়া যায়নি। দূতাবাসের মুখপাত্র সাধারণত এই ধরনের রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয়ের ওপর মন্তব্য না করার নীতি মেনে চলেন। তবে, পীরের দাবি অনুযায়ী, দূতাবাসের কিছু কর্মচারী প্রকাশ্যভাবে জামাতের নেতাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন, যা সংগঠনকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুর্বল করে তুলতে পারে।
জামাতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও পীরের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দিয়েছেন যে মার্কিন দূতাবাসের এই ধরনের উপস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে জামাতের সুনাম নষ্ট হবে এবং দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়বে। এছাড়া, তারা উল্লেখ করেছেন যে এই ধরনের অভিযোগের ফলে জামাতের সদস্যদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, দেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন এই ধরনের আন্তর্জাতিক মন্তব্যের প্রভাব বাড়তে পারে। জামাতের সমর্থকরা যদি বিদেশি শক্তির পক্ষপাতের শিকার হন, তবে তা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। পীরের মন্তব্যকে এই প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক মনোযোগকে দেশীয় রাজনৈতিক বিষয় থেকে দূরে সরানো যায়।
মার্কিন দূতাবাসের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না থাকলেও, কিছু বিশ্লেষক অনুমান করেন যে দূতাবাসের নীতি দলীয় গোষ্ঠীগুলোর নিরাপত্তা রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। তারা যুক্তি দেন যে, যদি জামাতের কোনো সদস্যের ওপর সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দূতাবাসের এই ধরনের মন্তব্য স্বাভাবিক হতে পারে। তবে পীরের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।
এই বিবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের দরজা বন্ধ রয়েছে। পীরের দল দাবি করে যে, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত কোনো রিপোর্টের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। অন্যদিকে, মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দূতাবাসের এই অভিযোগের ফলে জামাতের নেতৃত্ব ভবিষ্যতে কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার পরিকল্পনা করেছে। পীরের দল ইতিমধ্যে কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা যায়। এছাড়া, তারা দেশের অভ্যন্তরে আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে, যাতে কোনো অবৈধ লেবেলিংয়ের বিরুদ্ধে রক্ষা পাওয়া যায়।
সারসংক্ষেপে, চরমোনাইর পীরের মতে মার্কিন দূতাবাসে জামাতকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট যোগাযোগের অভাবের ফলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উঁচুতে রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



