বিএনপি ৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইশতেহার উন্মোচন করবে। দলটি দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমুখী নীতি সমূহকে একসঙ্গে উপস্থাপন করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে দ্রুত এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রধান দলগুলো তাদের নির্বাচনী কৌশল চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে তার নীতি দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করতে চায়।
বিএনপির মিডিয়া সেল আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল গত বুধবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে ইশতেহার প্রকাশের তারিখ নিশ্চিত করে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি নির্ধারিত সময়ে ইশতেহার উপস্থাপন করবে এবং তা জনসাধারণের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবে।
এর আগে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র এবং চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ইশতেহার প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে বিশদে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ইশতেহার তৈরির তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’ ও ‘২৭ দফা’ ভিত্তিক নীতিগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তবায়িত কর্মসূচির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে। এই কর্মসূচিগুলোর ফলাফল ও অভিজ্ঞতা ইশতেহার রচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইশতেহারের মূল বিষয়বস্তুতে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, কৃষকের অধিকার, সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দলটি দাবি করে, এই নীতিগুলো গ্রামীণ ও শহুরে উভয় স্তরে মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, শাসনকালে আওয়ামী লীগ সরকার ইশতেহার প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে নিজস্ব নীতি দিকনির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। সরকারী সূত্রে উল্লেখ আছে, তারা নির্বাচনী প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে বিএনপির পরিকল্পনার প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবে।
বিএনপির ইশতেহার উন্মোচন ভোটারদের মধ্যে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে যুবক ও কৃষক ভোটার গোষ্ঠীর মধ্যে দলটির প্রস্তাবিত কর্মসংস্থান ও কৃষি নীতি গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারবে মিডিয়া কাভারেজ ও রাজনৈতিক মিথস্ক্রিয়ার পরিমাণ।
ইশতেহার প্রকাশের পর দলটি নির্বাচনী প্রচারাভিযান ত্বরান্বিত করবে বলে জানানো হয়েছে। আসন্ন সপ্তাহগুলোতে রেলওয়ে, রোড ও সিটি র্যালি সহ বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ে সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সমাবেশগুলোতে ইশতেহারের মূল পয়েন্টগুলো পুনরায় তুলে ধরা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দুই প্রধান দলের নীতি পার্থক্য ভোটারদের পছন্দ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিএনপির ইশতেহার যদি বাস্তবায়নযোগ্যতা ও জনসেবা দিক থেকে শক্তিশালী প্রমাণিত হয়, তবে তা ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়তা করতে পারে।
অবশেষে, ইশতেহার উন্মোচনের পর দলটি কীভাবে তার নীতি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করবে, তা নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে। ভোটারদের প্রত্যাশা, পার্টির সংগঠন ক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়া একত্রে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



