বারিশালের ঐতিহাসিক বেলপার্ক ময়দানে গত বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বৃহৎ জনসভার সময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে একটি গোপন সংগঠন নতুন জালিমের রূপে উদয় হয়েছে, যা নারীর মর্যাদা রক্ষা করতে অক্ষম। এই সংগঠনের নেতারা নারী ও মায়ের প্রতি অশালীন মন্তব্য করে নিজেদের মতামতকে হ্যাক বলে দাবি করলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে তা কোনো হ্যাক নয়, বরং বাস্তব অবস্থা।
তারেক রহমানের মতে, ১২ তারিখের আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জাল ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলছে। তিনি জানান, কিছু দলের কর্মী ও সমর্থকরা জাল ব্যালট পকেটে রাখার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জনগণকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান। তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের কৌশল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিকৃত করতে পারে, তাই জনগণকে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ভোট দিতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান নারী কর্মজীবী ও স্বনির্ভর নারীর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কিছু গোষ্ঠী নারীর ঘরবন্দি করার পরিকল্পনা করছে, যা দেশের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবে। তিনি কুমিল্লার একটি স্থানীয় নেতার মন্তব্য উল্লেখ করে বলেন, “১২ তারিখ পর্যন্ত আমরা জনগণের পা ধরব, তার পর জনগণ আমাদের পা ধরবে”—এ ধরনের কৌশল জনগণের স্বায়ত্তশাসনকে হুমকির মুখে ফেলবে। তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, জনগণই সব ক্ষমতার মূল উৎস এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করা প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব।
তারেক রহমানের বক্তব্যে তিনি ৫ আগস্টের আগে স্বৈরাচারী শাসনের দ্বারা জনগণকে অপমান করা ধারার অব্যাহত থাকা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এমন গোপন সংগঠন যে নারী ও মায়ের প্রতি অবহেলা করে, তা দেশের শাসনব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন গোষ্ঠী কীভাবে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করবে, এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ভোলা-বারিশাল সংযোগের জন্য সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেন, যদি সরকার নির্বাচিত হয় তবে ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে শিল্প কারখানা স্থাপন এবং দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা হবে। এছাড়া ভোলায় মেডিক্যাল কলেজ ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা উল্লেখ করেন, যা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সহায়তা করবে।
তারেক রহমানের এই বক্তৃতা দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে। তিনি ১৩ তারিখ থেকে তার দলের সদস্যদের জনগণের পা ধরতে নির্দেশ দেন, যা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ। এই ঘোষণার ফলে বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তারা এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগকে ভোটার ভিত্তি গড়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
বিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, জাল ব্যালটের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি, তবে এমন অভিযোগের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে। তারা তদুপরি, নারী অধিকার সংক্রান্ত তারেকের মন্তব্যকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকার করে, তবে বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা দরকার।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের ভাষণ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ উভয়ই উন্মোচিত করেছে। তিনি গোপন সংগঠনের বিরুদ্ধে সতর্কতা, জাল ব্যালটের সম্ভাব্য হুমকি, নারী অধিকার রক্ষার আহ্বান এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা একসাথে উপস্থাপন করেছেন। এইসব বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং ভোটারদের মনোভাব কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



