18.5 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশি জিনপিং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান

শি জিনপিং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং বুধবার ফোনে সংযুক্ত হয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয়, তাইওয়ান, নিয়ে আলোচনা করেন। শি তাইওয়ানকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়” বলে উল্লেখ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বীপে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দেন। উভয় নেতাই পারস্পরিক পার্থক্য সমাধানের উপায় খুঁজে বের করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

শি জিনপিং ফোনে জোর দিয়ে বললেন, তাইওয়ান “চীনের ভূখণ্ড” এবং চীনকে “সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতা” রক্ষা করতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রয় নিয়ে “বিবেচনাপূর্ণ” পদক্ষেপ নিতে সতর্ক করেন, যা চীনের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন কলকে “চমৎকার”, “দীর্ঘ ও বিশদ” বলে বর্ণনা করেন এবং কথোপকথনের ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে স্বীকার করেন। তিনি টুইটারে উল্লেখ করেন, চীন ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক “অত্যন্ত ভাল” এবং উভয় পক্ষই এই সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব উপলব্ধি করে।

এই কলের আগে, সাম্প্রতিক মাসে পশ্চিমা নেতাদের চীনে সফর বাড়ছে; যুক্তরাজ্যের কেয়ার স্টারমারসহ বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে ভ্রমণ করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পও এপ্রিল মাসে চীনে সফরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা তিনি “অত্যন্ত প্রত্যাশা” করছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, চীন বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের ক্রয় বাড়িয়ে ২০ মিলিয়ন টন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছে, যা বর্তমান ১২ মিলিয়ন টনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তিনি এই তথ্যকে তার সামাজিক মিডিয়া পোস্টে উল্লেখ করে চীনের অর্থনৈতিক চাহিদা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং শেষবার নভেম্বর মাসে ফোনে সংযুক্ত ছিলেন, যেখানে বাণিজ্য, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ, ফেন্টানিল এবং তাইওয়ানসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হয়েছিল। বর্তমান কলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানের বর্তমান অবস্থা এবং চীনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস ক্রয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শি জিনপিং পুনরায় জোর দিয়ে বললেন, তাইওয়ান চীনের ভূখণ্ড এবং চীন “একতা” অর্জনের জন্য কোনো বিকল্প বাদ দেয়নি, এমনকি বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও অস্বীকার করেননি। এই অবস্থান চীনের দীর্ঘস্থায়ী নীতি, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, তবে তাইওয়ানের সঙ্গে তার সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি বহু বছর ধরে সূক্ষ্ম সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই দ্বি-ধারার নীতি বজায় রেখে, তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শি জিনপিংয়ের সতর্কতার আহ্বান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্য উভয়ই ভবিষ্যতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাইওয়ান সংক্রান্ত অস্ত্র বিক্রয়, সয়াবিন ক্রয় এবং জ্বালানি বাণিজ্যসহ বহু ক্ষেত্রেই উভয় পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments