18.5 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকর্নেল অলি আহমেদ জোর দেন, জামায়াত-এ-ইসলামি আমিরের মন্তব্যে কোনো অপমান নেই

কর্নেল অলি আহমেদ জোর দেন, জামায়াত-এ-ইসলামি আমিরের মন্তব্যে কোনো অপমান নেই

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অনুষ্ঠিত ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে এলডিপি চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা (অব.) ডা. কর্নেল অলি আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কের প্রতি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, জামায়াত-এ-ইসলামি আমির ডা. শফিকুর রহমানের কোনো বক্তব্যে তার প্রতি অপমানজনক কোনো শব্দ ব্যবহার করা হয়নি।

কর্ণেল অলি আহমেদ বলেন, আমিরের বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেননি। তার ব্যাখ্যায় তিনি উল্লেখ করেন, “চট্টগ্রাম থেকেই প্রথম বিদ্রোহ হয়েছে, এটাই সত্য” এবং এ কথাটি তিনি আমিরের মূল বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করেছেন।

ডা. শফিকুর রহমান ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে এক সমাবেশে বলেছিলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রাম থেকে করা হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকেই প্রথম “We revolt” বলা হয়েছে। তবে তিনি কর্নেল অলি আহমেদের নাম উল্লেখ করে তাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করেননি, এ কারণেই কর্নেল অলি আহমেদ তার মন্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে কোনো অপমানের ইঙ্গিত নেই।

একই দিনে, লোহাগাড়ায় অনুষ্ঠিত আরেকটি ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে কর্নেল অলি আহমেদ নিজে উল্লেখ করেন, তিনি চট্টগ্রাম থেকে বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়েছেন। এই বক্তব্যের পর কিছু বিএনপি নেতাকর্মী সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি আমির কর্নেল অলি আহমেদকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিএনপি নেতাদের এই দাবি নিয়ে অনলাইন আলোচনায় তীব্রতা দেখা দেয়। তবে রাঙ্গুনিয়ায় প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি আহমেদ পুনরায় স্পষ্ট করেন, ডা. শফিকুর রহমানের কোনো মন্তব্যে তার প্রতি অপমানজনক কোনো কথা নেই এবং অতিরিক্ত সমালোচনা প্রয়োজন নেই।

কর্ণেল অলি আহমেদ বলেন, আমিরের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরা, স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে নিজের নাম তুলে ধরা নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি প্রথম বিদ্রোহ করেছি” এমন কোনো দাবি করা হয়নি, বরং চট্টগ্রাম থেকে প্রথম বিদ্রোহের সত্যিকারের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ব্যাখ্যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, এই ধরনের বিবৃতি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক বর্ণনা নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে। তবে কর্নেল অলি আহমেদ উল্লেখ করেন, তার মন্তব্যের লক্ষ্য কেবল ভুল ধারণা দূর করা এবং অতিরিক্ত উত্তেজনা না বাড়ানো।

বিএনপি নেতাদের দাবি এবং কর্নেল অলি আহমেদের স্পষ্টীকরণের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে, কিছু নেতা জামায়াত-এ-ইসলামি আমিরের বক্তব্যকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছেন, অন্যদিকে কর্নেল অলি আহমেদ ঐতিহাসিক তথ্যের সঠিক উপস্থাপনায় জোর দিয়েছেন।

এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, জামায়াত-এ-ইসলামি এবং অন্যান্য জোটের নেতারা রাঙ্গুনিয়া ও লোহাগাড়া সমাবেশে উল্লিখিত ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণকে পুনরায় আলোচনা করতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই বিতর্কের ফলে পার্টিগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক বর্ণনা নিয়ে আরও তীব্র আলোচনা হতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

কর্ণেল অলি আহমেদ শেষ পর্যন্ত বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের মন্তব্যে কোনো অপমানের ইঙ্গিত নেই এবং তিনি এই বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনা না করার আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ঐতিহাসিক সত্যকে সম্মান করা এবং অতিরিক্ত উত্তেজনা না বাড়ানো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের পরিমাণ কমে যাওয়া সত্ত্বেও, এই ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব এবং বর্ণনা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে, জামায়াত-এ-ইসলামি এবং অন্যান্য জোটের নেতারা এই ধরনের বিষয়কে কীভাবে পরিচালনা করবেন, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments