18 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাগ্লোবাল কোরিয়ান গিমের চাহিদা বাড়ায় দাম, দেশীয় বাজারে চাপ

গ্লোবাল কোরিয়ান গিমের চাহিদা বাড়ায় দাম, দেশীয় বাজারে চাপ

দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনন্দিন খাবারের অপরিহার্য উপাদান গিমের (শুকনো সীউইড) দাম গত মাসে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা দেশীয় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। গিম, যা কালো, খাস্তা এবং প্রায়ই চতুষ্কোণাকার আকারের, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, ফলে মূল্যবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।

গিমের ঐতিহ্যবাহী ব্যবহার কোরিয়ান খাবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত; এটি প্রায়ই ভাতের সঙ্গে বা স্ন্যাক হিসেবে খাওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে গিমকে “গিম” বলা হয় এবং এটি সাশ্রয়ী মূল্যের খাবার হিসেবে পরিচিত। তবে গ্লোবাল চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামেও উত্থান দেখা দিচ্ছে।

সিয়োলের কেন্দ্রীয় বাজারে ৪৭ বছর ধরে গিম বিক্রি করা বিক্রেতা লি হ্যাং-রান, ৬০-এর দশকের বয়সী, জানান যে পূর্বে পশ্চিমা ভোক্তারা গিমকে অদ্ভুত কালো কাগজের মতো মনে করতেন। আজকের দিনে একই গ্রাহকরা বড় পরিমাণে গিম কেনার জন্য তার স্টলে আসছেন, যা স্থানীয় বাজারের গতিবিদ্যায় পরিবর্তন আনে।

দক্ষিণ কোরিয়া গিমের সর্ববৃহৎ উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হিসেবে পরিচিত, যার পণ্য এশিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে। এই পণ্যকে কখনও কখনও “কোরিয়ার কালো সেমিকন্ডাক্টর” বলা হয়, যা দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বৈশ্বিক শেয়ারকে প্রতিফলিত করে।

কোরিয়া মারিটাইম ইনস্টিটিউট (KMI) অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গিমের রপ্তানি মোট ১.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়, যা পূর্বের বছরের তুলনায় ধারাবাহিক বৃদ্ধি নির্দেশ করে। রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গিমের উৎপাদনও বাড়ছে, তবে সরবরাহ শৃঙ্খলে সীমাবদ্ধতা ও কৃষি শর্তের পরিবর্তন দামকে প্রভাবিত করছে।

২০২৪ সালে গিমের এক শিটের গড় দাম প্রায় ১০০ ওন (প্রায় ০.০৬ ডলার) ছিল, এবং সাধারণত ১০ শিটের প্যাকেজে বিক্রি হতো, যা মোটামুটি ০.৬ ডলারের সমান। তবে গত মাসে এই দাম ১৫০ ওনের উপরে উঠে যায়, যা দেশের রেকর্ড উচ্চতা।

প্রিমিয়াম গিমের দাম আরও বেশি, কিছু উচ্চমানের পণ্যের শিটের দাম ৩৫০ ওন পর্যন্ত পৌঁছায়। এই মূল্য পার্থক্য ভোক্তাদের পছন্দের ধরণে পরিবর্তন আনছে, বিশেষ করে যারা বাজেটের মধ্যে সাশ্রয়ী বিকল্প খুঁজছেন।

৩০-এর দশকের কিম জায়েলা, যিনি গিমকে বড় পরিমাণে (প্রায় ৫০০ শিট) কেনেন, জানান যে দাম বাড়ার ফলে তিনি এখন ক্রয় পরিমাণ কমাতে বিবেচনা করছেন। তিনি অনলাইন শপিংয়ের মাধ্যমে দাম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সাময়িকভাবে দুই প্যাকের গিম দিয়ে কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

দাম বৃদ্ধির ফলে গিমের দৈনন্দিন ব্যবহারকারী ও স্ন্যাক প্রেমিকদের মধ্যে ক্রয় আচরণে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কিছু ভোক্তা উচ্চমূল্যের পণ্য থেকে সরে সস্তা বিকল্প বা বিকল্প সীউইড পণ্য বেছে নিতে পারেন, যা অভ্যন্তরীণ বাজারের বিক্রয় পরিমাণকে প্রভাবিত করবে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে গ্লোবাল চাহিদা অব্যাহত থাকলে রপ্তানি আয় বাড়বে, তবে একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সরবরাহের চাপ বাড়বে। উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রভাব গিমের উৎপাদনশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভবিষ্যতে গিমের দাম আরও ওঠানামা করতে পারে; রপ্তানি বৃদ্ধির গতি যদি স্থিতিশীল থাকে তবে দাম স্থিতিশীল হতে পারে, তবে কৃষি শর্তের অস্থিরতা বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প নিশ্চিত করতে সরকারী সমর্থন ও উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি প্রয়োজন হতে পারে।

গ্লোবাল গিমের জনপ্রিয়তা কোরিয়ার কৃষি ও রপ্তানি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। এই দ্বিমুখী প্রভাবকে সামাল দিতে উৎপাদন বাড়ানো, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল করা এবং মূল্য নীতি সমন্বয় করা জরুরি।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments