18 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাতীয় নাগরিক দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক ভোটকেন্দ্র দখলকে সতর্ক করেছেন

জাতীয় নাগরিক দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক ভোটকেন্দ্র দখলকে সতর্ক করেছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় নাগরিক দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে ভোটকেন্দ্র দখলের সম্ভাব্য প্রচেষ্টাকে কঠোর সতর্কতা জানিয়ে দেন। তিনি উপস্থিত সমর্থকদের জানিয়ে বলেন, যারা ভোটকেন্দ্র দখল করতে চায়, তাদের মা‑বোন ও সন্তানদের দোয়া নিয়ে আসতে হবে, কারণ একবার ঢুকে গেলে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে না।

এই বক্তব্যের সময় তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনের নামে চলমান অনৈতিক চর্চাকে বদলাতে চাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল ভোটারদের অর্থ ও খাবারের প্যাকেট দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, এমনকি ভোটারদের বাড়িতে যানবাহন পাঠিয়ে ভোট সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, তার নিজস্ব কর্মসূচিতে মানুষ নিজের খরচে অংশ নিচ্ছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের স্তরকে প্রকাশ করে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও জানান, গত দেড় বছরে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল এখন নির্বাচনের ব্যয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি এই অর্থের ব্যবহারকে ‘ব্ল্যাক মানি’ হিসেবে চিহ্নিত করে, ভোটারদের আহ্বান করেন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এসব অনৈতিক চর্চা প্রত্যাখ্যান করতে।

প্রশাসন ও পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি অতীতের ভোটের অনিয়মের উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে দিনভর ভোট নেওয়া, রাতের সময় ভোট দেওয়া এবং মৃত ব্যক্তির নামেও ভোট পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু কর্মকর্তা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাইলেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপের মুখে বাধা পায়। পুলিশ সদস্যদেরও অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে।

মিডিয়া ভূমিকা নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন, তৃণমূলের সাংবাদিকদের পাঠানো খবর প্রায়শই প্রচারিত না হওয়ার অভিযোগ তুলে, এবং একটি নির্দিষ্ট দলের প্রচারণা ও প্রশংসায় গণমাধ্যমের অধিকাংশ অংশ ব্যস্ত থাকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি সতর্ক করেন, যদি মিডিয়া নিরপেক্ষতা বজায় না রাখে, তবে জনগণও মিডিয়ার প্রতি ‘লাল কার্ড’ দেখাবে।

অবশেষে তিনি বর্তমান নির্বাচনের বিশেষ গুরুত্বের ওপর জোর দেন, এটিকে ‘শহীদদের নির্বাচন’ ও ‘আহত ছাত্র‑জনতার নির্বাচন’ হিসেবে বর্ণনা করে, বহু প্রাণহানি ও সহিংসতার স্মৃতি বহনকারী এই প্রক্রিয়ার প্রতি সকলের দায়িত্ববোধ জোরালোভাবে প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের পর উপস্থিত সমর্থকরা তার আহ্বান মেনে ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতি জানান।

জাতীয় নাগরিক দলের এই সতর্কতা ও আহ্বান দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোটের গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ত্বরিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়বে। ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের ফলাফল যদি ভোটারদের প্রত্যাখ্যানের ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তদারকি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হতে পারে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অনৈতিক চর্চা দমন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments