নিউ ইয়র্কের স্টার্ট‑আপ Atma Sciences সম্প্রতি গিজমো নামের একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে, যা টিকটকের মতো উল্লম্ব ফিডে ইন্টারেক্টিভ মিনি‑অ্যাপ প্রদর্শন করে। ব্যবহারকারীরা টেক্সট, ছবি, শব্দ এবং টাচ ইনপুটের মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারেন, এবং তা স্ক্রল‑অনুসারে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।
গিজমোতে শুধুমাত্র ভিডিও দেখার নয়, সরাসরি স্ক্রিনে স্পর্শ, ট্যাপ, ড্র্যাগ, অঙ্কন ইত্যাদি করে খেলা সম্ভব। ব্যবহারকারী যে ধরনের “গিজমো” দেখেন, তার ওপর নির্ভর করে পোক, সুইপ, ট্যাপ বা ড্র্যাগের মতো ক্রিয়া প্রয়োজন হয়, ফলে প্রতিটি মিনি‑অ্যাপ একটি ছোট ডিজিটাল খেলনা হিসেবে কাজ করে।
এই মিনি‑অ্যাপগুলো গেমের সীমা ছাড়িয়ে পাজল, মিম, শিল্পকর্ম, অ্যানিমেশন বা স্রষ্টার কল্পনা অনুযায়ী যেকোনো রূপ নিতে পারে। ফলে ফিডটি শুধুমাত্র দেখার জন্য নয়, ব্যবহারকারীকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। ব্যবহারকারীরা তৈরি করা গিজমোতে লাইক ও মন্তব্য করতে পারেন এবং অন্যের গিজমো রিমিক্স করে নিজের সংস্করণ তৈরি করতে পারেন।
গিজমোতে কোডিং জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ব্যবহারকারী কেবল প্রাকৃতিক ভাষায় একটি আইডিয়া বর্ণনা করে AI‑কে প্রম্পট দিতে পারেন, এরপর অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড তৈরি করে ইন্টারেক্টিভ অভিজ্ঞতা গড়ে তোলে। এই প্রক্রিয়ায় AI ব্যবহার করে কোডের পাশাপাশি ভিজ্যুয়াল রেন্ডারিংও তৈরি হয়, যাতে অ্যাপটি সঠিকভাবে কাজ করে এবং ব্যবহারকারীর জন্য মসৃণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গিজমোর সব মিনি‑অ্যাপ AI এবং মানব মডারেশন উভয়ের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। কোম্পানির FAQ অনুসারে, এই দ্বৈত যাচাই প্রক্রিয়া অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে ব্যবহারকারীকে রক্ষা করে।
গিজমোর পেছনে Atma Sciences দল রয়েছে, যার সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাড ফসেট এবং ব্র্যান্ডন ফ্রান্সিস, পাশাপাশি সিইও জশ সিগেল এবং সিটিও ড্যানিয়েল আমিতায়। কোম্পানিটি নিউ ইয়র্কে ভিত্তিক এবং সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সংযোগে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
গত বছর কোম্পানি প্রথম পর্যায়ের তহবিল সংগ্রহে $5.49 মিলিয়ন সংগ্রহ করে, যার প্রধান বিনিয়োগকারী First Round Capital এবং অন্যান্য ভেঞ্চার ফার্ম। PitchBook ডেটা অনুযায়ী, এই তহবিল গিজমোর উন্নয়ন ও বাজারে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হবে।
Atma Sciences তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে যে গিজমোর মূল লক্ষ্য হল “শক্তিশালী প্রযুক্তি এবং সরল, সুন্দর ভিত্তি” একত্রে নিয়ে আসা। তারা বিশ্বাস করে যে ব্যবহারকারীর সৃজনশীলতা AI‑এর সহায়তায় সহজে বাস্তবায়িত হতে পারে, ফলে ডিজিটাল কন্টেন্টের উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে সরল হবে।
গিজমোকে প্রযুক্তি শিল্পে একটি নতুন ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ছোট, ইন্টারেক্টিভ অভিজ্ঞতা বড় সামাজিক নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে উঠছে। ব্যবহারকারীরা এখন শুধুমাত্র ভিউ বা লাইক নয়, সরাসরি অ্যাপের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবে, যা কন্টেন্টের গভীরতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াবে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, গিজমোর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ভবিষ্যতে শিক্ষামূলক, বিপণন এবং বিনোদন ক্ষেত্রের কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষকরা ইন্টারেক্টিভ পাজল বা সিমুলেশন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন, আর ব্র্যান্ডগুলো ছোট গেমিফাইড বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবে।
গিজমোর বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারী ভিত্তি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ অ্যাপটি কোডিং দক্ষতা ছাড়াই সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ দেয়। যদি AI‑চালিত কোড জেনারেশন এবং নিরাপদ মডারেশন সিস্টেম স্থিতিশীল থাকে, তবে গিজমো ডিজিটাল কন্টেন্টের উৎপাদন ও ভোগের পদ্ধতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গিজমো একটি টিকটকের মতো উল্লম্ব ফিডে ইন্টারেক্টিভ মিনি‑অ্যাপের নতুন পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে AI‑এর সাহায্যে কোডিং ছাড়াই সৃজনশীলতা বাস্তবায়ন সম্ভব। Atma Sciences এর এই উদ্যোগ প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সংযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, এবং ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে আরও সক্রিয় ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।



