19 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামি ইশতেহার প্রকাশে নারী কর্মঘণ্টা কমানোর পরিকল্পনা ঘোষিত

জামায়াত-এ-ইসলামি ইশতেহার প্রকাশে নারী কর্মঘণ্টা কমানোর পরিকল্পনা ঘোষিত

বনানীর একটি হোটেলে বুধবার সন্ধ্যায় জামায়াত-এ-ইসলামি তার নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচন করে। দলের আমির শফিকুর রহমান ইশতেহার অনুষ্ঠানে নারী কর্মঘণ্টা কমানোর নতুন নীতি ও গ্রামীণ নারীর স্বাবলম্বী প্রকল্পের বিবরণ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং কর্মস্থলে নারীর কাজের ঘণ্টা নির্ধারণে সরকার ও নিয়োগকর্তা দুজনেরই অংশগ্রহণ থাকবে।

শফিকুর রহমানের মতে, কোনো নারী যদি কোনো শিল্পখানা বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তবে তার কাজের ঘণ্টার জন্য বেতন নিয়োগকর্তা প্রদান করবে, আর বাকি সময়ের বেতন সরকারের দায়িত্ব হবে। এই ব্যবস্থা নারীর কাজের সময়কে স্বল্প করে তাদের পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে লক্ষ্য রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে চালু হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে সমর্থন পাবে।

ইশতেহারে “আমার আয়ের সংসার” নামে একটি প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার উদ্দেশ্য গ্রামীণ নারীদের কেবল ভাতা নয়, প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। সেলাই, হস্তশিল্প, ফ্রিল্যান্সিং, কৃষি ইত্যাদি উৎপাদনশীল ক্ষেত্রের ওপর জোর দিয়ে এককালীন সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ ও মানসম্মত কাজের পরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, শফিকুর রহমান ইশতেহার উন্মোচনের সময় ১৯৭১, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালের গণ-আন্দোলন ও বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দলটি একটি পরিষ্কার ও নৈতিক বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প নিয়েছে। তিনি অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পেছনে ফেলে, মেধা, উদ্ভাবন ও আদর্শনির্ভর নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

শফিকুর রহমান অতীতের ১৫ বছরকে উল্লেখ করে বলেন, তৎকালীন সব বিরোধী দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক মহল ও আলেম-ওলামা নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন, “আমরা মজলুম ছিলাম, কিন্তু ৫ আগস্টের পর অনেকেই অতীতের স্মৃতি ভুলে গেছেন।” এ সময়ের মধ্যে কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে কাজ করে দেশের মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন, এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ইশতেহারকে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, শান্তিবান্ধব ও শৃঙ্খলাবান্ধব হিসেবে বর্ণনা করে শফিকুর রহমান জানান, এই দলীয় নীতি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বৈষম্যহীন ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনের ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারী ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রতিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক উল্লেখ করেছেন, নারী কর্মঘণ্টা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আর্থিক ব্যয় ও তহবিল সংগ্রহের প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে। তারা তদুপরি জোর দিয়েছেন, সরকারী বেতনের অংশগ্রহণের জন্য স্পষ্ট নীতি ও বাজেটের প্রয়োজন, নতুবা পরিকল্পনা কার্যকর করা কঠিন হতে পারে। তবে শফিকুর রহমানের দল এই উদ্বেগগুলোকে স্বাগত জানিয়ে, সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন ও তহবিল নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইশতেহার প্রকাশের পর দলীয় কর্মীরা বিভিন্ন শহরে এই নীতিগুলো নিয়ে জনসাধারণের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। নারীর কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী প্রকল্পের বিষয়ে তথ্যবহুল সেশন ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করা হচ্ছে। শফিকুর রহমানের বক্তব্যের ভিত্তিতে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, জামায়াত-এ-ইসলামি ইশতেহারে নারী কর্মঘণ্টা হ্রাস, গ্রামীণ নারীর স্বাবলম্বী প্রকল্প এবং ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে। এই নীতিগুলোর বাস্তবায়ন কীভাবে দেশের শ্রমবাজার ও সামাজিক কাঠামোকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments