19 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনাইজেরিয়ার কওয়ারা রাজ্যে গুলিবিদ্ধ দুই গ্রামে নিহতের সংখ্যা বাড়ে, মার্কিন সেনা উপস্থিতি...

নাইজেরিয়ার কওয়ারা রাজ্যে গুলিবিদ্ধ দুই গ্রামে নিহতের সংখ্যা বাড়ে, মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিশ্চিত

কওয়ারা রাজ্যের নুকু ও ওরো গ্রামে অপরিচিত গুলিবাজদের আক্রমণে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাড়ি-দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আইনসভার সদস্য সাইদু বাবা আহমেদ এই ঘটনার তথ্য সম্প্রচার সংস্থাকে জানিয়েছেন। একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ছোট দল দেশের মধ্যে কাজ করছে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে।

আক্রমণটি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ১৭:৩০ টায় শুরু হয় এবং গুলিবাজরা গ্রামগুলোর প্রধান বাড়ি, দোকান ও ঐতিহ্যবাহী নেতার বাসা জ্বালিয়ে দেয়। আগুনের শিখা ও গুলিবর্ষণ থেকে বেঁচে থাকা বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায়, ফলে এলাকায় বিশাল বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

মৃত্যু সংখ্যার ব্যাপারে এখনও পার্থক্য রয়েছে; সাইদু বাবা আহমেদ কমপক্ষে ৩৫ জনের মৃত্যু জানিয়েছেন, তবে রেড ক্রসের এক কর্মকর্তা এফপিএকে জানিয়েছেন যে শিকারের সংখ্যা ১৬২ পর্যন্ত বাড়তে পারে। উভয় সূত্রই উল্লেখ করেছে যে সঠিক সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা বাকি।

কওয়ারা পুলিশ স্পিকারস্ম্যান আদেতৌন এজিরে-আদেয়েমি বলছেন, আক্রমণটি সন্দেহভাজন ‘ব্যান্ডিট’ গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট এখনো ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে, তবে আহত ও নিখোঁজদের সঠিক তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এই ঘটনার আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের আক্রমণ ঘটেছে, যা গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে নথিভুক্ত হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধারাবাহিকতা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।

নাইজেরিয়া সরকার এই সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি দলকে দেশের মধ্যে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ডিফেন্স মন্ত্রী ক্রিস্টোফার মুসা উল্লেখ করেছেন, দলটি গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান করবে, তবে তার আকার, আগমন তারিখ বা অবস্থান সম্পর্কে কোনো বিশদ প্রকাশ করা হয়নি।

মার্কিন আফ্রিকা কমান্ডের জেনারেল ড্যাগভিন অ্যান্ডারসনও একই সময়ে জানিয়েছেন, এই মোতায়েনটি নাইজেরিয়া সরকারের অনুরোধে করা হয়েছে এবং মূলত গোয়েন্দা সহায়তা প্রদানকে কেন্দ্র করে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, এই সহযোগিতা উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি সময়কালে, নভেম্বর মাসে মার্কিন সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, তারা নাইজেরিয়ার মধ্যে ইসলামিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেবে। তবে এই নির্দেশনা থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি, যা এই ঘোষণাকে প্রথমবারের মতো প্রকাশ করে।

নাইজেরিয়া সরকার বর্তমানে বহু ধরনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে; অপরাধী গ্যাং, যাদের স্থানীয়ভাবে ‘ব্যান্ডিট’ বলা হয়, তারা ডাকাতি ও মুক্তিপণ দাবি করে কিডনাপ করে। পাশাপাশি ইসলামিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণ, ভূমি সংক্রান্ত সংঘাত এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনও দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

অধিক তদন্তের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখনো ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। ভবিষ্যতে মৃতদেহের সনাক্তকরণ, নিখোঁজদের সন্ধান এবং অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বলা হচ্ছে, স্থানীয় আদালত দ্রুত মামলার রায় প্রদান করবে এবং শিকারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে, রেড ক্রসের সহায়তা নিয়ে আহতদের চিকিৎসা ও শরণার্থীদের জন্য অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। নাইজেরিয়া সরকার এই সহায়তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের জন্য সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments