২০২৫ সালে বাংলাদেশ মোট ৩৮.৮২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় আট দশমিক আট ভাগ, অর্থাৎ ৩১ বিলিয়ন ডলার, ইতিমধ্যে নির্ধারিত একাদশটি দেশে যাবে। এই দেশগুলো হল যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জাপান, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই একাদশটি দেশে মোট পোশাকের ৭৯.৯২ শতাংশ রপ্তানি হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের ৭৯.২৭ শতাংশের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ রপ্তানি অন্যান্য দেশগুলোতে বিতরণ হয়েছে।
একটি একক গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ শেয়ার ধরে রেখেছে; মোট রপ্তানির ১৯.৪৩ শতাংশ সেখানে পৌঁছেছে এবং গত বছর এখানে পোশাক রপ্তানিতে ৪.৬৮ শতাংশের বৃদ্ধি দেখা গেছে। জার্মানিতে শেয়ার ১২ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১১.৩২ শতাংশ এবং স্পেনে ৯ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। বাকি নয়টি দেশে প্রত্যেকের শেয়ার প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি।
অপ্রচলিত বাজার হিসেবে বিবেচিত দেশগুলো—ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মেক্সিকো, ভারত, মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং চিলি—এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল এবং রাশিয়া সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রাখে। তবে নতুন বাজারে প্রবেশের গতি এখনও ধীর, কারণ বিনিয়োগের অভাব এবং ঝুঁকি হ্রাসের জন্য ব্যবসায়ীরা পরিচিত গন্তব্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
জাপানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে; ২০২৫ সালে জাপানে মোট ১১৮ কোটি ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি হবে বলে অনুমান। এটি দেশের মোট রপ্তানির প্রায় তিন শতাংশ। ওভন পোশাকের রপ্তানি ৫৮ কোটি ৬১ লাখ ডলার, আর নিট খাতে আয় ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। জাপানের চাহিদা বাড়ার ফলে একাধিক কোম্পানি এখানে তাদের উপস্থিতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা না থাকলে নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত থাকে। তিনি আরও বলছেন, সরকার যদি বিশেষ প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, তবে রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে নতুন গন্তব্যে প্রবেশের জন্য উল্লেখযোগ্য মূলধন ও লজিস্টিকস অবকাঠামো দরকার। বিনিয়োগের অভাবের ফলে বেশিরভাগ প্রস্তুতকারক এখনও ঐতিহ্যবাহী বাজারে মনোযোগ দিচ্ছেন, যেখানে চাহিদা স্থিতিশীল এবং ঝুঁকি কম। তাই সরকারী নীতি ও বেসরকারি সেক্টরের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে অগ্রগতি ধীর হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে, তবে তার অধিকাংশই ঐতিহ্যবাহী ১১টি গন্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। নতুন বাজারে প্রবেশের গতি বাড়াতে বিনিয়োগ, শক্তি সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং সরকারী প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই শর্তগুলো পূরণ হলে, ভবিষ্যতে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ার মতো অপ্রচলিত গন্তব্যে শেয়ার বাড়তে পারে এবং রপ্তানি কাঠামো আরও সমন্বিত হবে।
বাজারের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে, শিল্প সংস্থা ও নীতি নির্ধারকদের উচিত রপ্তানি-নির্ভর শিল্পের জন্য শক্তি, লজিস্টিকস এবং আর্থিক সহায়তার সমন্বিত পরিকল্পনা গড়ে তোলা। এভাবে নতুন গন্তব্যে প্রবেশের ঝুঁকি কমে যাবে এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়বে।



