19 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধইমেইল থেকে প্রমাণিত অ্যান্ড্রু ও ভার্জিনিয়া গিফ্রের ছবি বাস্তব

ইমেইল থেকে প্রমাণিত অ্যান্ড্রু ও ভার্জিনিয়া গিফ্রের ছবি বাস্তব

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নতুন প্রকাশিত নথিতে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর এবং তার অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া গিফ্রের একসাথে তোলা ছবির সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। এই নথি একটি ইমেইল, যা গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০১৫ সালে জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে পাঠানো হয়েছিল। ইমেইলের শিরোনাম “ড্রাফট স্টেটমেন্ট” এবং এতে উল্লেখ আছে যে ২০০১ সালে লন্ডনে গিফ্রে তার কিছু বন্ধুর সঙ্গে দেখা করেন, যার মধ্যে প্রিন্স অ্যান্ড্রুও ছিলেন। সেই সময়ে একটি ফটো তোলা হয়, যা গিফ্রে তার পরিবার ও বন্ধুদের দেখাতে চেয়েছিলেন বলে অনুমান করা হয়।

ইমেইলে গিফ্রের বাড়িতে কোনো অনুপযুক্ত কাজের তথ্য না থাকলেও, ছবির উপস্থিতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশিত নথিতে মূল লেখকের নাম লালচিহ্নে গোপন করা হয়েছে, তবে বিষয়বস্তু থেকে স্পষ্ট যে গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলই এই বিবরণটি লিখেছেন। গিফ্রে, যিনি এপস্টেইন ও ম্যাক্সওয়েলের অন্যতম প্রধান অভিযোগকারী, দাবি করেন যে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর তার সঙ্গে কিশোর বয়সে তিনবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।

অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর এই অভিযোগকে সর্বদা অস্বীকার করে আসছেন এবং কখনোই গিফ্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে স্বীকার করেননি। ২০২২ সালে তিনি গিফ্রের সঙ্গে একটি আউট‑অফ‑কোর্ট সমঝোতা করেন, তবে এতে কোনো দোষ স্বীকার বা ক্ষমা চাওয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সমঝোতার শর্তে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু পূর্বে ফটোটি পরিবর্তিত হতে পারে অথবা সম্পূর্ণই ভিন্ন হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ২০১৯ সালে তিনি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না ছবিটি ডোজেটেড কিনা, তবে আমি তা কখনো দেখিনি।” তিনি ছবির সত্যতা নিয়ে কোনো স্পষ্ট প্রমাণের অভাব উল্লেখ করে তার অস্বীকার বজায় রেখেছেন।

প্রাসঙ্গিকভাবে, ২০১১ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইনের একটি ইমেইলও প্রকাশিত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ঐ ইমেইলে এপস্টেইন লিখেছিলেন, “হ্যাঁ, গিফ্রে আমার বিমানে ছিলেন এবং হ্যাঁ, তার সঙ্গে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসরের ছবি তোলা হয়েছিল।” এই বার্তাটি পূর্বে প্রকাশিত ফটোকে সমর্থন করার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিবাদিত ছবিটি প্রথমবার ২০১১ সালে মিডিয়ায় প্রকাশিত হয় এবং তখন থেকেই অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসরের বিরুদ্ধে অভিযোগের কেন্দ্রে রয়ে গেছে। যদিও তিনি ফটোটি নকল হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন, তবে DOJ-এর সাম্প্রতিক ফাইল প্রকাশের মাধ্যমে ছবির অস্তিত্ব ও সময়কাল স্পষ্ট হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এই ইমেইলগুলোকে “এপস্টেইন ফাইলস” নামে পরিচিত বৃহত্তর নথি সংগ্রহের অংশ হিসেবে প্রকাশ করেছে। এই ফাইলগুলোতে এপস্টেইন ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং সাক্ষাৎকারের রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফাইলগুলোতে গিফ্রের সঙ্গে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসরের সাক্ষাতের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত, যা পূর্বে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিবাদিত ফটো এবং সংশ্লিষ্ট ইমেইলগুলো নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য BBC নিউজের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই নথিগুলোর প্রকাশের পর, যুক্তরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থা উভয়ই বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। বর্তমানে কোনো নতুন মামলা দায়েরের তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।

অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর এবং গিফ্রের মধ্যে ২০২২ সালের সমঝোতা এবং বর্তমান নথি প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে, এই বিষয়টি জনমত ও মিডিয়ার দৃষ্টিতে পুনরায় তীব্রতা পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এখনো পর্যন্ত কোনো নতুন বিবৃতি প্রদান করা হয়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য আদালতীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে নজর রাখা হবে।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত ইমেইলগুলো গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েল এবং জেফ্রি এপস্টেইনের মাধ্যমে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর ও ভার্জিনিয়া গিফ্রের একসাথে তোলা ছবির প্রকৃততা নিশ্চিত করেছে। এই তথ্য পূর্বের অভিযোগ, সমঝোতা এবং অ্যান্ড্রুর অস্বীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং ভবিষ্যতে আইনি ও তদন্তমূলক প্রক্রিয়ার জন্য নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments