চি-ওয়েটেল ইজিওফর নতুন এক্সরসিস্ট চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে স্কার্লেট জোহানসন, জ্যাকোবি জুপ এবং ডায়ান লেনও অংশ নেবেন। ছবিটি ব্লুমহাউস-অ্যাটমিক মনস্টার, মর্গান ক্রিক এন্টারটেইনমেন্ট এবং রেড রুম পিকচার্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে। ইউনিভার্সাল এই ছবিটি ১২ মার্চ ২০২৭ তারিখে থিয়েটারে মুক্তি দেবে।
নির্দেশনা ও চিত্রনাট্য মাইক ফ্ল্যানাগান পরিচালনা করছেন, যিনি একই সঙ্গে স্ক্রিপ্ট লিখেছেন এবং প্রযোজনা দায়িত্বে আছেন। ফ্ল্যানাগান পূর্বে ইজিওফরের সঙ্গে “দ্য লাইফ অফ চাক” ছবিতে কাজ করেছেন, যা স্টিফেন কিংয়ের গল্পের উপর ভিত্তি করে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ২০২৪ সালে পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড জিতেছিল। এই সহযোগিতা নতুন প্রকল্পে পুনরায় দেখা দিচ্ছে।
ফ্ল্যানাগান উল্লেখ করেছেন যে নতুন এক্সরসিস্ট কোনো রিমেক বা সিক্যুয়েল নয়, বরং মূল চলচ্চিত্রের মহাবিশ্বে নতুন গল্পের সূচনা হবে। তিনি গল্পকে “তাজা এবং সাহসী” দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছেন, যা দর্শকদের পরিচিত পরিবেশে নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।
কাস্টে স্কার্লেট জোহানসন জ্যাকোবি জুপের মায়ের চরিত্রে উপস্থিত হবেন, আর ডায়ান লেনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। ইজিওফরকে এক্স-কন থেকে পুরোহিতে রূপান্তরিত চরিত্রে দেখা যাবে, যা তার অভিনয় দক্ষতাকে নতুন মাত্রা দেবে। এই চরিত্রের মাধ্যমে ছবিতে ধর্মীয় ও নৈতিক দ্বন্দ্বের নতুন দিক উন্মোচিত হবে।
মূল এক্সরসিস্ট চলচ্চিত্রটি উইলিয়াম পিটার ব্লাট্টির উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে ১৯৭৩ সালে তৈরি হয়েছিল, যেখানে উইলিয়াম ফ্রাইডকিন পরিচালনা করেন। ছবিটি এক কন্যার দানবীয় দখল এবং তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করা পুরোহিতদের গল্প বলে, এবং দশটি অস্কার নোমিনেশন পেয়েছিল।
এর পরের বেশ কিছু সিক্যুয়েল মূলত কন্যার বড় হওয়া জীবন, পুরোহিতদের পটভূমি বা প্রথম ছবির তদন্তকৃত দানবীয় কেসের উপর কেন্দ্রীভূত ছিল। নতুন প্রকল্পটি এই ধারাকে অব্যাহত রাখবে না, বরং এক্সরসিস্টের বিস্তৃত জগতে নতুন কাহিনী গড়ে তুলবে।
শুটিং কাজ নিউ ইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শহরের আধুনিক দৃশ্যপট এবং অন্ধকারময় গলিগুলোকে ব্যবহার করে ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি করা হবে। স্থানীয় টিমের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কাস্টের সমন্বয়ে ছবির ভিজ্যুয়াল স্টাইলকে সমৃদ্ধ করা হবে।
প্রযোজনা দায়িত্বে ডেভিড রবিনসন মর্গান ক্রিক এন্টারটেইনমেন্টের জন্য কাজ করছেন, আর জেসন ব্লুম ব্লুমহাউস-অ্যাটমিক মনস্টারের প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন। রায়ান টুরেক এক্সিকিউটিভ প্রযোজক হিসেবে প্রকল্পের আর্থিক ও কৌশলগত দিক তত্ত্বাবধান করবেন। রেড রুম পিকচার্সের অ্যালেক্সান্দ্রা ম্যাগিস্ট্রোও এক্সিকিউটিভ প্রযোজক হিসেবে অংশ নেবেন।
চি-ওয়েটেল ইজিওফর পূর্বে এক অস্কার নোমিনেশন অর্জন করেছেন, যা তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে আরও দৃঢ় করেছে। এই নতুন ভূমিকায় তার পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা চলচ্চিত্র প্রেমিক ও সমালোচকদের মধ্যে বাড়ছে।
ইউনিভার্সাল এই ছবির বিশ্বব্যাপী বিতরণ নিশ্চিত করেছে এবং মার্চ ২০২৭-এ থিয়েটার স্ক্রিনে প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। ছবির প্রচারমূলক কার্যক্রমে কাস্টের উপস্থিতি এবং সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে।
প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও কাস্টের তালিকা প্রকাশের পর থেকে শিল্প জগতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। নতুন এক্সরসিস্টের গল্প, আধুনিক দৃষ্টিকোণ এবং শক্তিশালী কাস্টের সমন্বয় চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রকাশের তারিখের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের বুকিং শুরু হবে, এবং ভক্তরা এই ভয়াবহ ক্লাসিকের পুনর্নবীকরণকে বড় উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করছেন।



