19 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান চরিত্রহননকারীকে ক্ষমা জানান

জামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান চরিত্রহননকারীকে ক্ষমা জানান

ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির আমির, ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা বনানীর একটি হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে, তার বিরুদ্ধে চরিত্রহননকারী সকলকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। এই ঘোষণাটি দলের সমর্থক ও মিডিয়ার উপস্থিতিতে প্রকাশিত হয়।

ইশতেহার প্রকাশের অনুষ্ঠানটি জামায়াত-এ-ইসলামির নতুন রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়, যেখানে দলীয় নেতারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নীতি তুলে ধরেন। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

বক্তা নিজেকে ‘আহত সৈনিক’ বলে উপমা দিয়ে প্রকাশ করেন যে সাম্প্রতিক সময়ে তার ওপর বিভিন্ন দিক থেকে সমালোচনা ও আক্রমণ করা হয়েছে, যা তিনি ‘মিসাইল নিক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া বা ‘অ্যান্টি-মিসাইল’ ব্যবহারের কথা না বলে, বরং সম্পূর্ণভাবে ক্ষমা করার পথ বেছে নিয়েছেন।

প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা করার ধারণা তিনি রাজনৈতিক নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেন। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, যদি কেউ অন্যকে ক্ষমা করতে পারে, তবে সমাজের কাছ থেকেও নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি দেশের ও সমাজের জন্য বড় ক্ষতি বয়ে আনে এবং এ ধরনের পথ আর অনুসরণ না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

বক্তা ৪৭, ৭১ ও ২৪ সালের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ৫ আগস্টের পর জামায়াত-এ-ইসলামি একটি পরিষ্কার ও নৈতিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবে।

পূর্বের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে গিয়ে, দলটি মেধা, উদ্ভাবন এবং আদর্শনির্ভর নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করার পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তিনি দেশের উন্নয়নের নতুন দিক হিসেবে উপস্থাপন করেন।

ইশতেহারকে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, শান্তিবান্ধব এবং শৃঙ্খলাবান্ধব হিসেবে বর্ণনা করে, ডা. শফিকুর রহমান জনগণের অধিকার হিসেবে ম্যানিফেস্টোর প্রতিশ্রুতিগুলো সময়ের সাথে যাচাই করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই যাচাইয়ের মাধ্যমে জনগণই নির্ধারণ করবে দলটি তার লক্ষ্য পূরণে কতটা সফল।

গত সাড়ে পনেরো বছরে বিরোধী দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও আলেম-ওলামা সহ নানা গোষ্ঠী নিপীড়নের শিকার হয়েছে, এ কথা তিনি স্বীকার করেন। তবে জামায়াত-এ-ইসলামি নিজেও নিপীড়নের শিকার হলেও, ৫ আগস্টের পর কোনো অবস্থাতেই জালিমের পথে না হাঁটার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অবশেষে তিনি ব্যক্তিস্বার্থে দেশের মানুষকে কষ্ট দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেন যে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যায়ের পথে না হাঁটতে। এই আহ্বানটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments