জেমস ক্যামেরন পরিচালিত নতুন ছবির জন্য ডেবোরা এল. স্কটকে অস্কার কস্টিউম বিভাগে মনোনয়ন করা হয়েছে। স্কটের কাজের মধ্যে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ ছবির নাভি চরিত্রের পোশাক অন্তর্ভুক্ত, যা ডিজিটাল জগতে প্রথমবারের মতো অস্কার তালিকায় স্থান পেয়েছে। এই স্বীকৃতি তার ক্যামেরনের সঙ্গে দশকের বেশি সময়ের সহযোগিতার ফল, যা টাইটানিক থেকে শুরু হয়েছে।
ডেবোরা এল. স্কট এবং জেমস ক্যামেরনের প্রথম যৌথ প্রকল্প ছিল ১৯৯৭ সালের ‘টাইটানিক’। সেই সময়ে স্কটের কস্টিউম ডিজাইন দলটি ঐতিহাসিক জাহাজের বিশদ পুনর্নির্মাণে কাজ করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত ছবির জন্য সর্বোচ্চ সম্মান, অস্কার পুরস্কার জিতেছিল। টাইটানিকের সাফল্য স্কটকে আন্তর্জাতিক কস্টিউম শিল্পের শীর্ষে নিয়ে যায় এবং ক্যামেরনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের ভিত্তি স্থাপন করে।
টাইটানিকের পর স্কট ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’ সিরিজে যুক্ত হন। প্রথম ‘অ্যাভাটার’ (২০০৯) থেকে শুরু করে ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’ পর্যন্ত তিনি ধারাবাহিকভাবে নাভি জাতির পোশাকের নকশা ও নির্মাণে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃতীয় অংশ ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এ তার কাজ আবারও স্বীকৃতি পেয়েছে, যা তাকে অস্কার মনোনয়নের দ্বিতীয় সুযোগ এনে দিয়েছে।
‘অ্যাভাটার’ সিরিজের নাভি চরিত্রগুলো সম্পূর্ণভাবে কম্পিউটার জেনারেটেড এবং মশন-ক্যাপচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিনয় করা হয়। তাই স্ক্রিনে দেখা পোশাকগুলো শারীরিকভাবে অস্তিত্ব না থাকলেও, স্কটের দল প্রথমে প্রতিটি পোশাকের শারীরিক মডেল তৈরি করে। এই পদ্ধতি ডিজিটাল টেক্সচার ও রেন্ডারিংয়ের জন্য সঠিক রেফারেন্স প্রদান করে এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট টিমকে বাস্তবসম্মত ফলাফল অর্জনে সহায়তা করে।
প্রাথমিকভাবে ক্যামেরনের দল ডিজিটাল পদ্ধতিতে সবকিছু সম্পন্ন করা সম্ভব বলে ধারণা করেছিল। তবে প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখতে এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে স্কটের দলকে হাতে তৈরি পোশাক প্রস্তুত করতে হয়। এই শারীরিক মডেলগুলো পরে স্ক্যান করে ডিজিটাল রূপে রূপান্তরিত হয়, ফলে শেষ পর্যন্ত স্ক্রিনে দেখা পোশাকগুলো বাস্তবের কাছাকাছি টেক্সচার ও ভলিউম পায়।
কস্টিউম বিভাগ ছবির সব দৃশ্যের জন্য চূড়ান্ত পণ্য সরবরাহের একমাত্র দায়িত্বশীল ইউনিট। এতে পোশাকের পাশাপাশি হাতে তৈরি প্রপস, হেয়ার গার্ম এবং পারফরম্যান্স ক্যাপচার স্যুট অন্তর্ভুক্ত। পারফরম্যান্স ক্যাপচার স্যুটগুলো সাদা রঙের এবং এমন উপাদান দিয়ে তৈরি, যা বাস্তব স্যুটের আচরণকে অনুকরণ করে, ফলে অভিনেতাদের চলাচল ও অভিব্যক্তি সঠিকভাবে রেকর্ড হয়। এই প্রক্রিয়া জিম ক্যামেরনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি ডিজিটাল চরিত্রের বাস্তবতা বজায় রাখতে এই সূক্ষ্মতা চান।
অস্কার মনোনয়নের গুরুত্ব স্কটের জন্য দ্বিগুণ। একদিকে এটি ডিজিটাল কস্টিউম ডিজাইনের শিল্পকে স্বীকৃতি দেয়, অন্যদিকে এটি দেখায় যে কস্টিউম ডিজাইন আর শুধুমাত্র লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্রে সীমাবদ্ধ নয়। স্কটের দল পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে ভিএফএক্স টিমের সঙ্গে দৈনিক বা সাপ্তাহিক মিটিং করে, যাতে ডিজিটাল পোশাকের গুণগত মান ও সৃজনশীল দিক নিশ্চিত করা যায়।
স্কটের মতে, ডিজিটাল পোশাকের চ্যালেঞ্জ হল শারীরিক পোশাকের মতোই টেক্সচার ও ভলিউম বজায় রাখা, যা ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের নির্ভুলতা বাড়ায়। তিনি উল্লেখ করেন যে কস্টিউম ডিজাইন এখন ভিএফএক্স টিমের সঙ্গে সমান স্তরে কাজ করে, ফলে সৃজনশীল সিদ্ধান্তগুলো একসাথে নেওয়া হয়। এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বেশি ডিজিটাল চরিত্রের জন্য বাস্তবসম্মত কস্টিউম তৈরিতে সহায়তা করবে।
‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এর অস্কার মনোনয়ন কস্টিউম শিল্পে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি দেখায় যে ভার্চুয়াল জগতে তৈরি পোশাকগুলোও শারীরিক পোশাকের মতোই শিল্পগত মূল্য অর্জন করতে পারে। স্কটের কাজের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি চলচ্চিত্রে ডিজিটাল কস্টিউমকে স্বতন্ত্র শিল্প শাখা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
এই অর্জন কস্টিউম ডিজাইনারদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল ও শারীরিক উপাদানের সমন্বয়কে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। শিল্পের এই পরিবর্তন দর্শকদের জন্য আরও সমৃদ্ধ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতের চলচ্চিত্রে কস্টিউমের ভূমিকা পুনর্নির্ধারণ করবে।



