বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান বুধবার বিকেলে হাতিরঝিলের অ্যাম্পিথিয়েটারে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা দেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা‑১৭ আসনের আওতায় কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা বস্তির বাসিন্দা, পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। জুবাইদা রহমান স্লাম বাসিন্দাদের সমস্যার সমাধানে সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও ন্যায়সঙ্গত নীতি প্রয়োগের আশ্বাস দেন।
বক্তৃতার শুরুতে তিনি উপস্থিত বাসিন্দাদের সমস্যার পরিমাণ উল্লেখ করে বলেন, বস্তিবাসীদের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জগুলো বহু এবং সেগুলো সমাধানের জন্য পরিকল্পনা ভিত্তিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা গৃহীত হলে এই সমস্যাগুলো সমাধানযোগ্য।
স্লাম বাসিন্দাদের শোনার পর জুবাইদা রহমান শ্রম ও মেধার মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের উন্নয়নে গৌরবের নতুন সূর্যোদয় দরকার, যেখানে ক্ষমতার আগে জনতা, সমতার আগে কোনো বৈষম্য থাকবে না। তিনি সকলের জন্য সমান সুযোগ ও শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা পেশাজীবী কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। তিনি দলের আসন্ন নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, ইশতেহারে বস্তিবাসীদের চাওয়া চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি থাকবে এবং ভোটারদের তা মনোযোগ দিয়ে পড়তে আহ্বান জানান।
নজরুল ইসলাম খান মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনের ব্যয় বাড়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু পণ্যের দাম নয়, যাতায়াত ও চিকিৎসা খরচেও অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। তিনি জানান, যদি বিএনপি সরকারে আসে, তবে মজুরি নির্ধারণে জীবনের ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করা হবে। নারী শ্রমিকদের নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বেতন পুনর্নির্ধারণের জন্য প্রতি দুই বছর অন্তর একটি কমিশন গঠন করা হবে, এ বিষয়েও তিনি স্পষ্ট করেন। এই কমিশন শ্রমিকদের মজুরি পুনর্মূল্যায়ন করে ন্যায়সঙ্গত বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রকৌশলী, চিকিৎসক, আইনজীবী ও অন্যান্য পেশাজীবীরা জুবাইদা রহমানের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে, স্লাম উন্নয়ন ও শ্রমিক কল্যাণে বাস্তবিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। উপস্থিতদের মধ্যে কিছু লোক সরাসরি প্রশ্ন করে, কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে এবং তহবিলের উৎস কী হবে তা জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
জুবাইদা রহমান উত্তর দেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও পার্টির কাঠামো একসাথে কাজ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, স্লাম উচ্ছেদ সমস্যার সমাধানে মানবিক দৃষ্টিকোণ বজায় রেখে পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে, যাতে বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষা পায়।
বিএনপি দল এই মতবিনিময় সভাকে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং তাদের চাহিদা শোনার সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দলটি আগামী সপ্তাহে ইশতেহার প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে স্লাম উন্নয়ন, শ্রমিকের অধিকার ও মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলার বিস্তারিত নীতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত বাসিন্দা ও পেশাজীবীরা জুবাইদা রহমানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আশাবাদী হন, তবে বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচি ও তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি রাখেন। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাড়লে, এই নীতিগুলো কীভাবে কার্যকর হবে তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



