২০১২ সালের জুলাই মাসে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার এক তরুণী, স্কাইলার নীস, তার বাড়ি থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর ব্যাপক অনুসন্ধান চালু হয়। প্রায় তিন মাসের খোঁজের পর ফেডারেল ও রাজ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তে তার নিকটস্থ দুই বন্ধুকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ঘটনাটি জাতীয় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে বিভিন্ন টেলিভিশন প্রোগ্রামে আলোচিত হয়।
সন্ধানকালে স্কাইলারকে শেষবার তার বাড়ির আশেপাশে দেখা গিয়েছিল, তবে কোনো স্পষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি। ফেডারেল ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেট পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত পরিচালনা করে, যেখানে ফোন রেকর্ড, সামাজিক মিডিয়া পোস্ট এবং স্কাইলারের ব্যক্তিগত নোটের বিশ্লেষণ করা হয়। এই প্রমাণগুলো শেষ পর্যন্ত দুই বন্ধুর অপরাধমূলক কার্যকলাপের দিকে ইঙ্গিত করে।
প্রতিবাদী দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে তারা স্কাইলারের মৃত্যুর দায় স্বীকার করে। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়, যা দেশের সর্বোচ্চ শাস্তির সম্ভাবনা তৈরি করে। মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন বিভিন্ন আইনি নথি ও সাক্ষ্য প্রকাশিত হয়, যা মিডিয়ার বিশদ বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে ওঠে।
স্কাইলার নীসের কেসটি পূর্বে ‘২০/২০’, ডিসকভারি+ এর ‘ডেডলিস্ট কিডস’ এবং ‘সি নো ইভিল’ সিরিজ, পাশাপাশি লাইফটাইমের ‘স্লিপিং উইথ এ কিলার’ প্রোগ্রামে উপস্থাপিত হয়েছে। এই সব প্রচারনা কেসের মূল তথ্য ও তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরেছে, তবে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ এখনো বাকি ছিল।
হুলু (হুলু) এবং ডিজনি (ডিজনি) প্ল্যাটফর্মে ৬ই মার্চ প্রিমিয়ার হওয়ার জন্য প্রস্তুত ‘Friends Like These’ শিরোনামের তিনটি অংশের ডকুসিরিজটি প্রকাশিত হবে। সিরিজটি স্কাইলার নীসের নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে তার মৃত্যুর পর্যন্ত ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতা অনুসরণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার, সামাজিক মিডিয়া পোস্ট এবং স্কাইলারের নিজস্ব লেখার মাধ্যমে কাহিনী গঠন করবে।
এই প্রকল্পের নির্মাতা ডোরোথি স্ট. পিকচার্সের পূর্ববর্তী কাজ হল কোর্টনি লাভের জীবনীমূলক ডকুমেন্টারি ‘অ্যান্টিহিরোইন’, যা জানুয়ারিতে সান্ড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয়। নতুন সিরিজটি একই প্রযোজকের দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি, যেখানে ডিজিটাল যুগের যুবক-যুবতীর মানসিক চাপ ও বন্ধুত্বের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, সিরিজটি তরুণদের ডিজিটাল পরিবেশে বেড়ে ওঠার সময়ের চ্যালেঞ্জ এবং বন্ধুত্বের ভঙ্গুরতা নিয়ে আলোকপাত করবে। এছাড়া, প্রেমের পরিবর্তে ঘৃণায় রূপান্তরিত হওয়া সম্পর্কের ধ্বংসাত্মক ফলাফলও বিশ্লেষণ করা হবে। সিরিজের কাঠামোতে মামলার সত্য উদ্ঘাটনের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি, বিশ্বাস এবং আনুগত্যের প্রশ্নও উত্থাপিত হবে।
ডকুসিরিজটি তৈরি করতে মামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি স্কাইলারের সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রকাশিত পোস্ট ও তার ব্যক্তিগত ডায়েরি থেকে উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতি কেসের মানবিক দিককে উন্মোচিত করে এবং দর্শকদেরকে ঘটনাটির গভীরতা অনুভব করাতে সহায়তা করবে।
হুলু এবং ডিজনি উভয় প্ল্যাটফর্মে একসাথে প্রকাশিত হওয়ায় সিরিজটি বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবে। হুলুতে ইতিমধ্যে সত্য-অপরাধ শৈলীর বেশ কিছু ডকুসিরিজ রয়েছে, যেমন ২০২৫ সালের ‘ডেভিল ইন দ্য ফ্যামিলি: দ্য ফল অফ রুবি ফ্রাঙ্কে’, ‘ডেথ ইন অ্যাপার্টমেন্ট ৬০৩: এলেন গ্রীনবার্গের রহস্য’ এবং ‘লাস্ট টেক: রাস্ট অ্যান্ড দ্য স্টোরি অব হ্যালিনা’। ‘Friends Like These’ এই তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ডকুসিরিজের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মামলার সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার আপডেটও প্রত্যাশিত। বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান আপিল ও শাস্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো আদালতে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় দর্শকদেরকে সতর্কতা সহকারে বিষয়বস্তু গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কেসের শিকার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়।



