মিনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে রাশিয়া আবারো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়ে গেছে। এই হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়।
সোমবার রাতের আক্রমণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। কিয়েভে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের জন্য দুইশো অধিক কর্মী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে শহরের এক হাজার একশের বেশি বাড়িতে এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
রাশিয়ার গুচ্ছ বোমা হামলায় পূর্বাঞ্চলের দ্রুজকিভকা শহরে সাতজনের মৃত্যু এবং পনেরোজনের আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে লিখে জানান, কিয়েভ, খারকিভ, সুমি ও পোল্টভা অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন, আর নিপ্রো ও চেরকাসি অঞ্চলেও অবস্থা উদ্বেগজনক।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাশিয়ার শীতকালীন আক্রমণকে “বর্বর” ও “বিশেষভাবে নিকৃষ্ট” বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শীতের তীব্রতায় এই ধরনের হামলা মানবিক দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য। স্টারমার এই মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর, যেখানে ট্রাম্প রাশিয়ার শীতকালীন বিরতি বজায় রাখার জন্য ভ্লাদিমির পুতিনকে অনুরোধ করেছিলেন। পুতিনের সম্মতি সম্পর্কে ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া এক সপ্তাহের বিরতি মেনে চলেছে।
ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার সময় উল্লেখ করেন, রোববার থেকে রোববার পর্যন্ত একটি সমঝোতা হয়েছে এবং শীতের কঠোর পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই সীমিত সুবিধা নিতে পারবে। তিনি যুক্তি দেন, “এটা এক সপ্তাহ, এত ঠান্ডায় আমরা যেটুকু পাই সেটুকুই নেব।” ট্রাম্প ইউক্রেনে যুদ্ধ থামাতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং আবুধাবিতে রাশিয়া-ইউক্রেন বিষয়ক বৈঠকের আয়োজনের পরিকল্পনা জানিয়েছেন।
তবে রাশিয়া এখনও যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। আধাবি (আবুধাবি) আলোচনার দ্বিতীয় দফা কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনবে কিনা তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে। চলমান আক্রমণের ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষক অ্যান্টন ভ্লাদিমিরভিচের মতে, রাশিয়ার শীতকালীন আক্রমণ কেবল সামরিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহকে দুর্বল করে আন্তর্জাতিক সমর্থনকে চ্যালেঞ্জ করার কৌশল। তিনি উল্লেখ করেন, “শীতের তীব্রতা এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি ইউক্রেনের নাগরিকদের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলবে, যা রাশিয়ার কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।”
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার বোমা ও রকেট আক্রমণ থেকে সৃষ্ট ক্ষতি মূল্যায়ন চলমান এবং ভবিষ্যতে আরও আকাশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। সরকার বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার ও মানবিক সহায়তা দ্রুততর করার জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে।
শীতের তীব্রতা এবং রাশিয়ার ধারাবাহিক আক্রমণকে বিবেচনা করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে যাতে রাশিয়া যুদ্ধবিরতির পথে ফিরে আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে অতিরিক্ত আর্থিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করার প্রস্তুতি জানিয়েছে, তবে রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সংঘাতের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের নাগরিকদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি, তাপমাত্রা হ্রাস এবং মৌলিক সেবার অভাব বাড়ছে। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গরম পোশাক, তাপ সরঞ্জাম এবং জরুরি খাদ্য সরবরাহের জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভবিষ্যতে শীতের শেষের দিকে রাশিয়ার আক্রমণ থামবে কিনা তা নির্ভর করবে কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের ওপর।



