21 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামি কর্মজীবী মায়ের কাজের সময় ৫ ঘণ্টা, বাকি ৩ ঘণ্টা ভর্তুকি

জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মজীবী মায়ের কাজের সময় ৫ ঘণ্টা, বাকি ৩ ঘণ্টা ভর্তুকি

ঢাকা শহরের একটি হোটেলে ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে জামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান কর্মজীবী মায়ের কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত নতুন নীতি জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ক্ষমতায় এলে কর্মজীবী মায়ের দৈনিক কাজের সময় পাঁচ ঘণ্টা নির্ধারিত হবে এবং অবশিষ্ট তিন ঘণ্টার জন্য সরকারী ভর্তুকি প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানের সূচনায় ডা. শফিকুর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মুহূর্ত নেন। এরপর তিনি দলীয় শাসন পরিকল্পনা উপস্থাপন করে বলেন, শাসনকালে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং ইশতেহারে আটটি ভাগে ৪১টি ভিশন তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইশতেহার কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য একটি জীবন্ত দলিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত ধারাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ধারাগুলোর মধ্যে কর্মজীবী মায়ের কাজের সময় সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাবটি অন্যতম।

ডা. শফিকুর রহমানের মতে, পাঁচ ঘণ্টার কাজের সময় মায়েদের কাজ-পরিবারের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে, আর বাকি তিন ঘণ্টার জন্য সরকারী আর্থিক সহায়তা তাদের আয় বৃদ্ধি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও শ্রম আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে।

প্রস্তাবিত ভর্তুকি ব্যবস্থা কীভাবে গঠন করা হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি, তবে সরকারী তহবিল থেকে সরাসরি মাসিক ভাতা বা কর ছাড়ের মাধ্যমে সুবিধা প্রদান করা হতে পারে বলে ধারণা করা যায়। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, এই নীতি কর্মসংস্থান বাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং পরিবারে আর্থিক চাপ কমাবে।

ইশতেহারে যুব সমাজের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকুক—এটা আজকের যুবসমাজ চায় না। তাদের কাছে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।” তিনি যুবকদের জন্য শিক্ষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা উদ্যোগকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা উল্লেখ করেন।

শহীদদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব দলটি কখনো অবহেলা করবে না। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দলীয় শাসনকালে শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা, দুর্নীতি মোকাবেলা এবং বিচারিক স্বায়ত্তশাসনকে অগ্রাধিকার দেবার কথা পুনরায় জোর দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা ও বিশ্লেষকরা ডা. শফিকুর রহমানের নীতিমালা সম্পর্কে মন্তব্যের সুযোগ পাননি। তবে কিছু রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা কর্মজীবী মায়ের কাজের সময় কমিয়ে ভর্তুকি প্রদানকে আর্থিক বোঝা বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।

জামায়াত-এ-ইসলামি দলের ইশতেহার মোট ৪১টি ভিশনকে আটটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে; প্রতিটি ভাগে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, পরিবহন, সামাজিক নিরাপত্তা, যুব উন্নয়ন এবং শাসন সংস্কার অন্তর্ভুক্ত। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, এই ভিশনগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ও নীতি নির্ধারণে ব্যাপক পরামর্শ প্রয়োজন হবে।

প্রস্তাবিত কর্মজীবী মায়ের নীতি দেশের শ্রম বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মঘণ্টা সীমাবদ্ধতা ও ভর্তুকি কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হলে, নারীর কর্মসংস্থান হার বৃদ্ধি পেতে পারে।

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর, ইশতেহার প্রকাশের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে দলীয় সংগঠকরা উপস্থিত জনগণের সমর্থন জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইশতেহার লক্ষ্য কেবল রাজনৈতিক জয় নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

এই ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে জামায়াত-এ-ইসলামি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের কাছে তাদের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে চায়। কর্মজীবী মায়ের কাজের সময় সীমাবদ্ধতা ও ভর্তুকি পরিকল্পনা তাদের সামাজিক নীতি প্যাকেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা পরবর্তী নির্বাচনী প্রচারাভিযানে আলোচনার বিষয় হতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments