ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে চলমান ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ থেকে ৭০০ ফেডারেল অভিবাসন এজেন্ট তৎক্ষণাৎ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত জানায়। এই পদক্ষেপটি দুইজন মার্কিন নাগরিকের গুলিবিদ্ধ মৃত্যুর পর এবং দেশব্যাপী প্রতিবাদে তীব্রতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের প্রত্যাহার অবিলম্বে শুরু হবে এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) ও বর্ডার প্যাট্রোলের কর্মী অন্তর্ভুক্ত। শহরে গুলিবিদ্ধ মৃত্যুর পর প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে চলেছে।
অপারেশন মেট্রো সার্জ, যা ডিসেম্বর মাসে শুরু হয়, মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং ‘খারাপ মানুষ’ গ্রেফতার করার জন্য চালু করা হয়েছিল। তবে এই অভিযান চলাকালে রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেট্টি নামে দুইজন নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, যা ব্যাপক জনসাধারণের নিন্দা ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন এই উদ্যোগের স্কেল কমিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে।
হোমান, যাকে ‘বর্ডার ত্সার’ বলা হয়, জানিয়েছেন যে ২,০০০ এজেন্ট এখনও মিনিয়াপোলিসে দায়িত্বে থাকবে, তবে লক্ষ্য হল ডিসেম্বরের আগে যেই স্তরে ছিল সেই স্তরে ফিরিয়ে আনা। এ জন্য তিনি ফেডারেল উপস্থিতি প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেবার কথা উল্লেখ করেছেন। এই হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে তিনি রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ সহযোগিতা উল্লেখ করেছেন। তিনি অতিরিক্তভাবে জানিয়েছেন যে এই ড্র-ডাউন প্রক্রিয়া আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন এছাড়াও মিনেসোটা জুড়ে সব আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার জন্য দেহ-ধারিত ক্যামেরা (বডি-ওয়র্ন ক্যামেরা) সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। হোমান জানান, মিনিয়াপোলিসের অফিসারদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য ফেডারেল এজেন্টের জন্যও এই সরঞ্জাম বিতরণ করা হবে। ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে অনধিকারিক কার্যকলাপ রোধের লক্ষ্য রয়েছে। এই উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ইতিমধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সরঞ্জাম শীঘ্রই বিতরণ শুরু হবে।
বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে হোমান অপারেশনকে ‘সফল’ বলে উল্লেখ করে, যদিও আদালতে বহু চ্যালেঞ্জ এবং দুইজন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তিনি স্বীকার করেন যে পুরো প্রক্রিয়া নিখুঁত নয়, তবে এখন এটি আরও সুশৃঙ্খল এবং একক কমান্ড কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ‘এটি আগে ভাল ছিল না, তবে আমরা এতে উন্নতি করেছি’ বলে তিনি মন্তব্য করেন। জনগণের মধ্যে এই মন্তব্যের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, কিছু লোক এটিকে স্বীকৃতি হিসেবে গ্রহণ করেছে, আবার অন্যরা এখনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অভিবাসন এজেন্টরা ‘খারাপ মানুষ’ গ্রেফতার করার দাবি করে, যার মধ্যে ১৪ জনকে হত্যা অপরাধে, ১৩৯ জনকে আক্রমণ মামলায়, ৮৭ জনকে যৌন অপরাধে এবং ২৮ জনকে গ্যাং সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই সংখ্যা সরকারি সূত্রে প্রকাশিত হলেও BBC-র দ্বারা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। গ্রেফতারের পরিমাণের এই বৃদ্ধি ফেডারেল নীতি ও স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
হোমান জানুয়ারি শেষের দিকে অপারেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে স্থানীয় ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার মাত্রা অনুযায়ী এজেন্টের সংখ্যা কমানোর কথা বলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ সহযোগিতা পাওয়ার পর ফেডারেল উপস্থিতি প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমানো হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ বিভাগ ও আইনি সংস্থাগুলি তথ্য শেয়ারিং এবং যৌথ অপারেশন চালিয়ে আসছে, যা ড্র-ডাউন প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। এই পদক্ষেপটি ভবিষ্যতে ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থার সম্পর্কের পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমের তীব্রতা হ্রাস পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে অপারেশনের শেষ পর্যায়ে বাকি ২,০০০ এজেন্টের ভূমিকা এবং দেহ-ধারিত ক্যামেরা প্রয়োগের প্রভাব রাজনৈতিক আলোচনার নতুন বিষয় হয়ে উঠবে। পরবর্তী সপ্তাহে স্থানীয় সরকার ও ফেডারেল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই পরিবর্তনের বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে। এছাড়া, ফেডারেল স্তরে অভিবাসন নীতি পুনর্বিবেচনার জন্য একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা শুরু হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।



