প্রাক্তন ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড অ্যান্ডি ক্যারোল বুধবার চেলসমফোর্ড ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে উপস্থিত হয়ে অ-সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে অ-দোষী দাবি করেন। তিনি তার প্রাক্তন স্ত্রী বিলি মাকলোকে বারবার ফোন করার অভিযোগে অভিযুক্ত।
অভিযোগটি চেলসমফোর্ড জাস্টিস সেন্টারের পারিবারিক আদালত দ্বারা জারি করা অ-সুরক্ষা আদেশের লঙ্ঘনের ভিত্তিতে। অভিযোগ অনুসারে, গত মার্চ মাসে ক্যারোল ধারাবাহিকভাবে মাকলোর ফোনে কল করেছেন, যা আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।
ক্যারোল বর্তমানে ৩৭ বছর বয়সী এবং ন্যাশনাল লীগ সাউথের ড্যাগেনহাম ও রেডব্রিজ ক্লাবে খেলছেন। তার ক্যারিয়ারের শুরুর সময় তিনি নিউক্যাসল এবং লিভারপুলের মতো প্রিমিয়ার লীগ ক্লাবে আক্রমণকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইংল্যান্ডের হয়ে ২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত তিনি মোট নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেন এবং দুইটি গোলের স্বাক্ষর রাখেন, যার মধ্যে একটি ইউরো ২০১২ টুর্নামেন্টে গড়ে তোলা হয়।
আদালতে উপস্থিতির সময় ক্যারোল সবুজ কোট পরিধান করে এবং বাম পায়ের ব্রেসসহ ক্রাচ ব্যবহার করে। তিনি তার নাম, ঠিকানা এবং জন্মতারিখ নিশ্চিত করে সংক্ষিপ্ত শোনানিতে অংশ নেন।
প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন আদালতে বিচার চান তা উল্লেখ করে “Crown please” বলে ক্রাউন কোর্টে বিচার চেয়েছেন। এই অনুরোধের মাধ্যমে তিনি মামলাটিকে উচ্চতর আদালতে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ডিস্ট্রিক্ট জাজ রয় ব্রাউন ক্যারোলকে জামিন প্রদান করেন এবং শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেন। জামিনের শর্তে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে পুনরায় হাজির হওয়ার দায়িত্বে থাকবেন।
ক্যারোলের পরবর্তী শুনানি ৪ মার্চ চেলসমফোর্ড ক্রাউন কোর্টে নির্ধারিত হয়েছে। সেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার দোষ স্বীকার বা অস্বীকারের সিদ্ধান্ত দেবেন এবং ট্রায়াল প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাবেন।
বিলি মাকলো, যিনি রিয়ালিটি শো “দ্য ওনলি ওয়ে ইজ এসেক্স”-এ পরিচিত, এই মামলায় মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখিত। তার সঙ্গে ক্যারোলের সম্পর্কের বিবরণ আদালতে উপস্থাপিত হয়নি।
অ-সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘন একটি অপরাধমূলক অভিযোগ, যার ফলে জরিমানা বা কারাদণ্ডের সম্ভাবনা থাকে। আদালত এই ধরনের লঙ্ঘনের গুরুতরতা বিবেচনা করে শাস্তি নির্ধারণ করে।
এই মুহূর্তে ক্যারোল বা মাকলোর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। উভয় পক্ষই আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন।
মামলাটির মূল বিষয় হল অ-সুরক্ষা আদেশের শর্তাবলী লঙ্ঘন হয়েছে কিনা এবং তা প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত কী রায় দেবে। এই প্রক্রিয়া চলাকালে উভয় পক্ষের আইনজীবী যথাযথভাবে যুক্তি উপস্থাপন করবেন।
ক্যারোলের ক্যারিয়ারকে ঘিরে এই আইনি বিষয়টি তার বর্তমান ক্লাবের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জনমতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তার ফুটবল কর্মক্ষমতা ও ক্লাবের অবস্থান আলাদা বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, অ্যান্ডি ক্যারোল অ-সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে অ-দোষী দাবি করে চেলসমফোর্ডের আদালতে উপস্থিত হয়েছেন এবং ক্রাউন কোর্টে ট্রায়াল চেয়েছেন। পরবর্তী শুনানি ৪ মার্চ নির্ধারিত, যেখানে মামলার চূড়ান্ত দিক নির্ধারিত হবে।



