রাজশাহী জেল ট্রেনিং সেন্টারের অডিটোরিয়ামে আজ বিকেলে হোম অ্যাডভাইজার লে. জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কিত এক সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোব ভায়োলেন্সের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের জন্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কোনো ভয় ছাড়াই দায়িত্ব পালন করবে।
সভায় রাজশাহী রেঞ্জের ডি.আই.জি. ও পুলিশ কমিশনারকে পাশে দাঁড়াতে বলার পর তিনি দুজনকে ইঙ্গিত করে জিজ্ঞেস করেন, “তাদের দিকে দেখুন—ভয় দেখাচ্ছে কি না?” এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মবিশ্বাসকে তুলে ধরেন।
মোব ভায়োলেন্সের ধারণা সম্পূর্ণই মিথ্যা বলে জাহাঙ্গীর চৌধুরী জোর দেন এবং বলেন, “পুলিশ কোনো হুমকির মুখে নেই, তারা নির্ভয়ে কাজ করছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় কোনো সহিংসতা ঘটার সম্ভাবনা নেই এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে।
এদিকে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য গৃহীত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানান। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে এবং সীমান্তবিহীন দুই-তিনটি কেন্দ্রে বাম্বু দিয়ে অস্থায়ী বেড়া গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অবৈধ অস্ত্রের সমস্যার সমাধানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। “অবৈধ অস্ত্রের বাজেয়াপ্তি ধারাবাহিকভাবে হচ্ছে,” তিনি বলেন এবং এটিকে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাপক মানবসম্পদ মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। সামরিক বাহিনীর প্রায় এক লক্ষ সৈন্য, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ থেকে তেইশ হাজার সাতশো জন, কোস্ট গার্ডের চার হাজার কর্মী, পুলিশ থেকে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার কর্মী, র্যাবের নয় হাজার সদস্য এবং পাঁচ লক্ষেরও বেশি আনসার কর্মী নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবে।
এই বিশাল নিরাপত্তা কাঠামো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো প্রান্তে নিরাপত্তা দুর্বল না থাকে। জাহাঙ্গীর চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, “সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং সমন্বিত, ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই চলবে।”
প্রশ্নোত্তর সেশনের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি এখনো চলমান, তবে সব ধাপই পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আহ্বান জানান এবং ভোটারদেরও আইন মেনে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে অনুরোধ করেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র্যাব, আনসার এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে দৃঢ় করবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেবে। সরকার এই দিক থেকে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত, এটাই হোম অ্যাডভাইজারের শেষ মন্তব্য।



