প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর, রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই, রয়্যাল লজ ছেড়ে নরফকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের ওড ফার্ম কটেজে বসবাস শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি মার্শ ফার্মে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করেছেন।
বাকিংহাম প্যালেস অক্টোবর ২০২৫-এ জানায় যে অ্যান্ড্রুকে রয়্যাল লজ ত্যাগ করতে হবে এবং তার প্রিন্স উপাধি বাতিল করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের নতুন নথি প্রকাশের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যান্ড্রু ও এপস্টেইনের সংযোগের বিষয়টি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ঘন ঘন আলোচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবী ব্র্যাড এডওয়ার্ডস একাধিক নারী পক্ষ থেকে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মামলায় অ্যান্ড্রুকে অভিযুক্ত করছেন। এডওয়ার্ডসের দল দাবি করে যে ২০১০ সালে এক নারীকে রয়্যাল লজে আনা হয়েছিল, যেখানে অ্যান্ড্রু তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছিল। অ্যান্ড্রু সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০১৪ সালে ভার্জিনিয়া জিউফ্রে অ্যান্ড্রু ও এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের করেন। জিউফ্রে দাবি করেন যে অ্যান্ড্রু তাকে এপস্টেইনের নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করে যৌন কাজে ব্যবহার করেছে।
২০২২ সালে অ্যান্ড্রু প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের সমঝোতা করে জিউফ্রের দাবিগুলো নিষ্পত্তি করেন। সমঝোতার পর জিউফ্রে ২০২৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
নতুন প্রকাশিত নথি ও ই‑মেইলগুলো এপস্টেইনের বিশাল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং তার প্রভাবশালী পরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্কের বিশদ তুলে ধরে। এসব নথিতে দেখা যায় যে এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রাজপরিবারের সদস্যদের নামও উল্লেখ রয়েছে, যা রয়্যাল লজের ওপর বাড়তি নজরদারির কারণ হয়েছে।
এপস্টেইন ২০০৮ সালে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন বৃত্তিতে প্রলুব্ধ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের ফেডারেল কারাগারে আত্মহত্যা সন্দেহভাজন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পরেও তার নেটওয়ার্কের তথ্য প্রকাশে ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
অ্যান্ড্রুর রয়্যাল লজ ত্যাগ এবং উপাধি বাতিলের সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। উপাধি না থাকলে তার সরকারি দায়িত্ব ও আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি সীমিত হবে, যা রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে পুনর্গঠন ঘটাতে পারে।
জনমতেও এই পদক্ষেপের প্রভাব স্পষ্ট। এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগের ফলে অ্যান্ড্রু ও রাজপরিবারের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং উপাধি বাতিলের মাধ্যমে শাসনকেন্দ্রিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
রাজপরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে রয়্যাল লজের পরিবর্তে স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের ওড ফার্মে অস্থায়ী বসবাস অ্যান্ড্রুর জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। পরবর্তী সময়ে মার্শ ফার্মে স্থায়ী হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকবেন।
এই পরিবর্তনগুলো ব্রিটিশ রাজনীতিতে এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় নজরদারির বিষয় হয়ে থাকবে, বিশেষ করে যখন রাজপরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত আচরণ ও নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।



