বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এম এ লতিফ খান, ৭৪ বছর বয়সে, বুধবার ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পার্টির নীতি ও নেতৃত্বের প্রতি অটুট সমর্থন প্রকাশ করে আসছেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে পরিবার ও পার্টি সূত্রে বার্ধক্যজনিত স্বাস্থ্যের অবনতি উল্লেখ করা হয়েছে।
লতিফ খান ২০১৯ সালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। পার্টির অভ্যন্তরে তিনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও কৌশলগত পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার কর্মজীবন সামরিক সেবা ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে সমন্বিত, যা তাকে পার্টির ভিতরে ও বাহিরে সম্মানিত করেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান লতিফ খানের মৃত্যুর পর শোক প্রকাশ করে একটি বিবৃতি জারি করেন। তিনি জানান, লতিফ খান একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিক ছিলেন এবং তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি, আদর্শ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, পাশাপাশি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অটল বিশ্বাস পোষণ করতেন। তদুপরি, তিনি পেশাগত জীবনে সৎ ও নিষ্ঠাবান স্বভাবের জন্য সকলের কাছেই সম্মানিত ছিলেন।
তারা আরও উল্লেখ করেন, লতিফ খানের অকাল বিদায়ে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করছেন এবং মৃতের আত্মার মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করছেন। শোকবার্তায় তিনি পরিবার, সহকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে সকলের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চান।
লতিফ খান তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার জুড়ে জিয়াউর রহমানের স্বনামধন্য নীতি ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দৃঢ় সমর্থন দেখিয়েছেন। তিনি পার্টির বিভিন্ন নির্বাচনী কৌশল ও সংগঠন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, বিশেষ করে গ্রামীণ ভিত্তি শক্তিশালী করার কাজে। তার অবদানকে পার্টির অভ্যন্তরে বহুজন স্বীকৃতি দিয়েছেন।
পেশাগত দিক থেকে, লতিফ খান সামরিক ক্যারিয়ারে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মশৈলীর জন্য পরিচিত ছিলেন। অবসর গ্রহণের পরেও তিনি সামাজিক সেবা ও রাজনৈতিক পরামর্শে সক্রিয় ছিলেন। তার সহকর্মীরা বলেন, তিনি সবসময় ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতার পক্ষে ছিলেন, যা তাকে পার্টির ভিতরে একটি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত করেছে।
মৃত্যুর পরপরই, বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পার্টির অফিসিয়াল সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা বা মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
লতিফ খানের অকাল মৃত্যু বিএনপি উপদেষ্টা কাউন্সিলের গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে। তার স্থানে নতুন কাউন্সিল সদস্যের নির্বাচন বা নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে, যা পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পার্টির গ্রামীণ ভিত্তি ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে তার অভিজ্ঞতা অনুপস্থিতি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিএমএইচ-তে তার শেষ সময়কাল চিকিৎসা সেবার অধীনে কাটিয়ে, লতিফ খান তার পরিবার ও সমর্থকদের বিদায় জানিয়ে চলে গেছেন। পার্টি ও তার সমর্থকরা ভবিষ্যতে তার আদর্শ ও নীতিগুলোকে বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যাতে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অব্যাহত থাকে।



