ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এবং ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (BCCI) তিন দিন আগে পাকিস্তানের সরকার কর্তৃক ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত টুইন্টি‑২০ বিশ্বকাপের ভারত‑বিপক্ষের ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকে কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। শীর্ষ কর্মকর্তারা, যার মধ্যে ICC চেয়ার জে শা এবং সিইও সঞ্জোগ গুপ্তা অন্তর্ভুক্ত, মিলানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC) এর ১৪৫তম সেশনের অংশ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানের সরকার যখন এই ম্যাচের বয়কট ঘোষণা করেছিল, তখনই ত্রিপক্ষের মধ্যে আলোচনার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। যদিও বয়কটের সিদ্ধান্ত সরকারী, তবু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে, যা গত বছর এশিয়া কাপের সময়ও দেখা গিয়েছিল। ফলে ICC, PCB এবং ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রতিনিধিরা এখনো অপেক্ষা‑খেলায় লিপ্ত, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
এই অবস্থা ICC বোর্ডের জন্য সহজ নয়; বয়কটকে হালকা করে দেখা সম্ভব না এবং ভবিষ্যতে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এমন কোনো পদক্ষেপের বাস্তবায়ন এখনও ঘটেনি এবং তা সম্ভবত পরবর্তী সময়ে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে নেওয়া হবে। কিছু সূত্রে উভয় পক্ষের মধ্যকার গোপন আলোচনার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
পাকিস্তানি মিডিয়ায় এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে যে জে শা এবং সঞ্জোগ গুপ্তা মুম্বাইয়ে গিয়ে জিওস্টার (Jiostar) এর মালিক মুকেশ অম্বানি সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বয়কটের পরিণতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। জিওস্টার বিশ্বকাপের ভারতীয় সম্প্রচার অধিকারী, তাই এই দাবি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। তবে বাস্তবে উভয় কর্মকর্তার উপস্থিতি মুম্বাইতে নয়, বরং ইউরোপের মিলানে নিশ্চিত হয়েছে।
মিলানে তাদের উপস্থিতি IOC এর আমন্ত্রণে, যেখানে বিশ্বব্যাপী অলিম্পিক গেমের অংশীদার সব আন্তর্জাতিক ফেডারেশন প্রতিনিধিত্ব করে। এই সেশনে ICC এবং PCB উভয়ের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতি ও শাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে, তারা ইউরোপের কয়েকটি সহযোগী ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।
বিশেষ করে সুইডেনের Svenska Cricketforbundet (SCF), জার্মানির Deutscher Cricket Bund (DCB) এবং জার্সির Jersey Cricket এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, টুর্নামেন্টের সময়সূচি এবং বিকাশমূলক প্রকল্প নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এই সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ICC ও PCB এর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মিলানে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকগুলোতে ত্রিপক্ষের মধ্যে সরাসরি কোনো সমঝোতা ঘোষিত হয়নি, তবে ভবিষ্যতে আলোচনার পথ প্রশস্ত করার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাছাড়া, ICC এর শীর্ষ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে এবং টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন।
টুইন্টি‑২০ বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচটি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। যদি পাকিস্তান সরকার বয়কট বজায় রাখে, তবে ICC কে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যা সম্ভবত টুর্নামেন্টের সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের দিকে নিয়ে যাবে। অন্যদিকে, যদি বয়কট প্রত্যাহার করা হয়, তবে দুই দলের মধ্যে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবার মঞ্চে ফিরে আসবে।
বর্তমানে ICC, PCB এবং ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য হল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ত্রিপক্ষের কর্মকর্তারা মিলানে উপস্থিত থাকায়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছেন, যা ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সহায়তা করবে। শেষ পর্যন্ত, টুর্নামেন্টের সাফল্য ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, এবং এই মুহূর্তে অপেক্ষা‑খেলা চালিয়ে যাওয়াই সর্বোত্তম কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।



