৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবঃ) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষ করেন। সভার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি পুলিশের মধ্যে মব ভয় কাজ করছে কিনা জানতে চাওয়া প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকে পাশে ডেকে, উপস্থিতদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এখানে কোনো ভয় দেখাচ্ছে না, মব ভায়োলেন্সের কোনো চিহ্ন নেই।” তিনি স্পষ্ট করে জানান, পুলিশের মধ্যে কোনো ভয় বা অনিশ্চয়তা কাজ করছে না এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ফাঁক নেই।
নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, সিসিটিভি ক্যামেরা প্রায় পুরো কেন্দ্র জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে সীমান্তের প্রাচীর অনুপস্থিত, সেখানে সাময়িকভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এসব ব্যবস্থা অনুযায়ী তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
অবৈধ অস্ত্রের সংক্রান্ত উদ্বেগের ওপরও তিনি মন্তব্য করেন, “এখানে অবৈধ অস্ত্র নিয়মিতই উদ্ধার হচ্ছে, তবে তা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারবে না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ উৎসবমুখর হবে এবং কোনো সহিংসতা ঘটবে না।
নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিশাল সংখ্যা মোতায়েন করবে। সামগ্রিকভাবে সেনাবাহিনীর এক লাখ সদস্য, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বাংলাদেশ গার্ডের তেতাল্লিশ হাজার, কোস্ট গার্ডের চার হাজার, পুলিশের এক লাখ পঞ্চাশ হাজার, র্যাবের নয় হাজার এবং আনসারের পাঁচ লক্ষের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এই বিশাল মানবশক্তি নির্বাচনকে সুরক্ষিত রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিতদের মধ্যে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. এ.এন.এম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. জিললুর রহমান, পাশাপাশি বিভাগের আটটি জেলার পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সব থানার ওএসিআইওর প্রতিনিধিরা ছিলেন।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মন্তব্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপকতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত উপস্থিতি নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করে। তিনি শেষ করে জানান, “নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং উৎসবমুখর হবে,” যা রাজশাহী অঞ্চলে ভোটারদের অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



