জাতীয় নাগরিক দল (NCP) দক্ষিণের প্রধান সংগঠক হসনাত Abdullah আজ বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী র্যালিতে প্রশাসন যদি জনগণের বিরোধে যায় তবে ৫ই আগস্টের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে সতর্কতা জানিয়ে বক্তৃতা দেন।
হসনাতের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ১,৪০০ শহীদদের রক্তে গড়া এই নির্বাচনের মূল্য যদি সরকার জনগণের প্রতি অবিচার করে, তবে অগাস্ট ৫‑এর রক্তাক্ত স্মৃতি আবার ফিরে আসবে। তিনি র্যালির উপস্থিত সকলকে, বিশেষ করে প্রশাসনিক ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে, ভোট চুরির হাতিয়ারকে ক্ষমতা দিলে একদিন নিজের সন্তানদের উপর গুলি চালানোর আদেশ আসতে পারে বলে সতর্ক করেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে দুর্নীতির কথা তুলে ধরে হসনাত ‘বেনাজির ও হারুন’ নামের ব্যক্তিদের পুনরায় সক্রিয়তা উল্লেখ করেন এবং অতীতের ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে শিখতে পুলিশ কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান। তিনি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে সিপি, ওসি, এসআই পদে আর কোনো টাকা দরকার হবে না বলে দাবি করেন।
জাতীয় নাগরিক দলের মূল লক্ষ্য কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পরিবর্তন নয়, বরং রাজনীতির নিয়মকানুন বদলানো এবং একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করা। এ লক্ষ্যে তিনি দলের নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরেন।
মিডিয়ার প্রতি হসনাতের সমালোচনাও র্যালিতে শোনা যায়। তিনি বলেন, কিছু মিডিয়া সংস্থা পক্ষপাতদুষ্ট কভারেজ দেয় এবং বিশেষ করে বৃহৎ মিডিয়া গুলো নির্দিষ্ট দল, বিশেষ করে বিএনপি,কে সমর্থন করে। এ ধরনের পক্ষপাতিত্বের ফলে যদি মিডিয়া পরবর্তী নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ মিডিয়াকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে বিরোধিতা করবে।
র্যালির আয়োজনের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নবীনগর ইউনিটের আমীর মোখলেসুর রহমান, যিনি সমাবেশকে উদ্বোধন করেন। সমাবেশে জেলা জামাতের আমীর মাওলানা মোবারক হোসেনের উপস্থিতি এবং ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতাদের বক্তব্যও শোনা যায়।
হসনাতের এই সতর্কবার্তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে। তিনি যে রূপকথা ব্যবহার করে ‘গোলাবার্ডি’ ও ‘লাল কার্ড’ উল্লেখ করেছেন, তা মিডিয়া ও জনমতকে তীক্ষ্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।
অবশ্যই, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি র্যালিতে উত্থাপিত উদ্বেগগুলোকে কীভাবে মোকাবেলা করবে, তা পরবর্তী দিনগুলোতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।



