Apeiron Labs ৯.৫ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ‑এ তহবিল সংগ্রহ করেছে, যাতে স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের রোবট ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীর স্তরের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করা হবে। প্রতিষ্ঠাতা রবি পাপু, যিনি ২০২২ সালে কোম্পানিটি গড়ে তোলেন, পূর্বে সিআইএর ভেঞ্চার শাখা In‑Q‑Tel‑এর সিটিও হিসেবে কাজ করেছেন।
বর্তমানে উপগ্রহের মাধ্যমে সমুদ্রের পৃষ্ঠের ডেটা ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়, তবে পৃষ্ঠের নিচের স্তরের তথ্য খুবই সীমিত। এই ঘাটতি মৎস্যজীবী, তটরক্ষী, আবহাওয়া বিজ্ঞানী এবং অফশোর উইন্ড প্রকল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ঐতিহ্যগতভাবে ডেটা সংগ্রহের জন্য ব্যয়বহুল জাহাজ ব্যবহার করতে হয়, যার দৈনিক খরচ প্রায় ১০০,০০০ ডলার, এবং কাজটি ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়।
Apeiron Labs এই সমস্যার সমাধানে কম খরচের স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান (AUV) তৈরি করছে। এই রোবটগুলো সমুদ্রের পৃষ্ঠ থেকে সমুদ্রতল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার উল্লম্বভাবে চলতে পারে এবং দিনে এক‑দুইবার তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং শব্দ তরঙ্গের তথ্য সংগ্রহ করে। ডেটা সংগ্রহের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়িয়ে সমুদ্রের গঠন ও প্রবাহের আরও সঠিক চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।
কোম্পানিটি এই রোবটগুলোকে সিভিলিয়ান এবং ডিফেন্স উভয় ক্ষেত্রের গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে। সামরিক ক্ষেত্রে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিদ্যমান লঞ্চ সরঞ্জামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত মোতায়েন সম্ভব। বাণিজ্যিকভাবে, জাহাজ বা বিমান থেকে সহজে ড্রপ করা যায়, যা ডেটা সংগ্রহের সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
সম্প্রতি সম্পন্ন তহবিল সংগ্রহে Dyne Ventures, RA Capital Management, Planetary Health এবং S2G Investments প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে অংশ নেয়। এছাড়া Assembly Ventures, Bay Bridge Ventures এবং TFX Capital ও এই রাউন্ডে অংশগ্রহণ করে। মোট তহবিল ৯.৫ মিলিয়ন ডলার, যা উৎপাদন বাড়ানো ও বাজারে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হবে।
প্রতিটি রোবটের দৈর্ঘ্য প্রায় তিন ফুট, ব্যাস পাঁচ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ২০ পাউন্ড। এই ছোট আকারের কারণে এটি নৌকা, হেলিকপ্টার বা ছোট বিমান থেকে সহজে ছেড়ে দেওয়া যায়। নৌবাহিনীর লঞ্চ সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় সামরিক ব্যবহারেও সুবিধা বাড়ে।
ডিভাইসটি পানিতে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান নির্ণয় করে এবং ক্লাউড‑ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। সংগ্রহ করা ডেটা রিয়েল‑টাইমে ক্লাউডে আপলোড হয়, যেখানে উন্নত মডেলগুলো ডাইভের সময় বিশ্লেষণ চালায়। ফলে ডেটা তৎক্ষণাৎ ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে, যা জরুরি সেবা ও গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রযুক্তি সমুদ্রের গভীর স্তরের তথ্য সহজলভ্য করে মৎস্যজীবীদের জাল ফেলা, তটরক্ষী সংস্থার নজরদারি, আবহাওয়া পূর্বাভাসের নির্ভুলতা এবং অফশোর উইন্ড প্রকল্পের পরিকল্পনা সবই উন্নত করতে পারে। ডেটা ঘনত্ব বাড়লে সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে Apeiron Labs এই রোবটের উৎপাদন বাড়িয়ে আরও বেশি অঞ্চল কভার করার লক্ষ্য রাখে। তহবিলের সহায়তায় উৎপাদন লাইনের স্বয়ংক্রিয়তা বৃদ্ধি, ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা উন্নত এবং গ্রাহকদের জন্য কাস্টমাইজড সমাধান প্রদান করা হবে। সমুদ্রের অজানা স্তরগুলোকে আলোকিত করার এই উদ্যোগটি প্রযুক্তি ও পরিবেশের সংযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



