21 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরাশিয়ায় কৌতুক অভিনেতা ওস্তানিনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড

রাশিয়ায় কৌতুক অভিনেতা ওস্তানিনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড

মস্কোর আদালত বুধবার কৌতুক অভিনেতা ওস্তানিনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ রুবল জরিমানা আরোপ করেছে। রাশিয়া সরকারের মতে, তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত সৈনিকের শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে রসিকতা করে জাতীয়তাবাদী ও সামরিক সমর্থকদের ক্ষোভ উসকে দিয়েছেন।

ওস্তানিনের রসিকতা একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত সৈনিকের ওপর ভিত্তি করে ছিল, যিনি মাইন বিস্ফোরণে দুই পা হারিয়ে স্কেটবোর্ডে চলাচল করেন। তিনি এই ব্যক্তির চলাচলকে নিয়ে মস্কোর একটি আন্ডারপাসে রসিকতা করেন, যা রুশ জাতীয়তাবাদী ও সামরিক ব্লগারদের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি করে।

রাশিয়া সরকার রাশিয়ার সেনা ও যুদ্ধবিধ্বস্তদের প্রতি ‘অশালীন’ মন্তব্যকে কঠোর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সরকার সেন্সরশিপ আইন জোরদার করে, এবং এই আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বহু ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করেছে। ওস্তানিনের মামলাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আদালতের রায়ে ওস্তানিনকে মোট পাঁচ বছর নয় মাসের কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ রুবল (প্রায় ৩,৯০৮ ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ‘বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার’ উদ্দেশ্যে রসিকতা করেছেন, যা রাশিয়া সরকারের দৃষ্টিতে অপরাধের শাস্তিযোগ্য অংশ।

ওস্তানিনের রায়ের সময় তিনি গ্রেফতার প্রক্রিয়া ও শারীরিক আচরণকে নিজের অপরাধের চেয়ে বেশি শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গ্রেফতার এবং তার পরবর্তী আচরণই যথেষ্ট শাস্তি প্রদান করেছে।

অধিকন্তু, ওস্তানিনের বিরুদ্ধে যীশু খ্রিস্টকে নিয়ে আপত্তিকর রসিকতা করার অভিযোগও আনা হয়। রুশ অর্থোডক্স জাতীয়তাবাদীরা এই রসিকতাকে ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে আঘাতকারী হিসেবে দেখেছে, এবং আদালত এটিকে আরেকটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে।

রাশিয়া সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়তি সেন্সরশিপ নীতি রয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধের পর থেকে সরকার প্রকাশ্যে ‘অশালীন’ বা ‘মিথ্যা’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করে, এবং এই আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের নিন্দা ও শাস্তি দেয়।

ওস্তানিনের রসিকতা প্রথমবারের মতো মার্চ মাসে অল্প সংখ্যক দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা হয়। সেই সময় তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত সৈনিকের শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে রসিকতা করেন, যা তৎক্ষণাৎ অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

রাশিয়া সরকারের দৃষ্টিতে, এমন রসিকতা জাতীয় গৌরব ও সেনাবাহিনীর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে, ফলে তা ‘বিদ্বেষ উসকে দেওয়া’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধে পরিণত হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি রাশিয়া সরকারের প্রকাশ্য বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত রায়ের পর ওস্তানিনের আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে; তবে রাশিয়া সরকারের আইন অনুযায়ী, দণ্ডবিধি অনুযায়ী আপিলের সুযোগ রয়েছে। আপিল প্রক্রিয়া কীভাবে অগ্রসর হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে রায়ের কার্যকরী হওয়ার পরই দণ্ড কার্যকর হবে।

এই মামলার মাধ্যমে রাশিয়া সরকার প্রকাশ্যভাবে জানিয়েছে যে, যুদ্ধবিধ্বস্তদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য বা ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে আঘাতকারী রসিকতা সহ সকল ‘অশালীন’ প্রকাশনা কঠোর শাস্তির আওতায় পড়বে।

রাশিয়া সরকারের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কাছ থেকে সমালোচনার মুখে পড়েছে, তবে সরকার দেশীয় আইন ও নিরাপত্তা নীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার রক্ষা করে।

সারসংক্ষেপে, ওস্তানিনের শাস্তি রাশিয়া সরকারের কঠোর সেন্সরশিপ নীতি এবং যুদ্ধবিধ্বস্তদের প্রতি সংবেদনশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ রসিকতা বা প্রকাশনা যদি একই রকম প্রতিক্রিয়া পায়, তবে একই ধরনের শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments