অস্ট্রিয়ার পরিচালক সেবাস্টিয়ান ব্রামেশুবারের নতুন চলচ্চিত্র ‘লন্ডন’ বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (বেরলিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল) বিশ্বপ্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবে। ছবিটি ১৬ ফেব্রুয়ারি প্যানোরামা প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হবে এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ও স্যালজবুর্গের মধ্যে সংযোগকারী হাইওয়ের ওপর গাড়ি‑শেয়ারিং সেবার মাধ্যমে যাত্রা করা এক চালকের সঙ্গে বিভিন্ন অচেনা মানুষের সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গাড়ি‑শেয়ারিং ব্যবহার করে যাত্রীর সংখ্যা বাড়াতে চাওয়া ববি নামের চালক, তার গাড়িতে একাধিক যাত্রীকে একসাথে নিয়ে যায় এবং পথে তাদের সঙ্গে কথোপকথন শুরু করে। এই কথোপকথনগুলোতে সামরিক সেবার বাধ্যবাধকতা নিয়ে সংগ্রামরত এক তরুণ, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসা এক সুপারমার্কেট প্রশিক্ষণার্থী, হাইওয়ের ইতিহাসে আগ্রহী এক একাডেমিক এবং বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া এক সমকামী নারী অন্তর্ভুক্ত।
ব্রামেশুবারের মতে, এই চলচ্চিত্রের মূল উদ্দেশ্য হল অচেনা মানুষদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠা সংযোগকে চিত্রায়িত করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, আধুনিক ইউরোপের বহুমুখী সংস্কৃতি, বিভিন্ন উচ্চারণ এবং ভিন্ন ভিন্ন জীবনের গল্পগুলোকে একত্রে তুলে ধরতে তিনি এই প্রকল্পটি বেছে নিয়েছেন। ছবির সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, “বিভিন্ন পথ, বিভিন্ন উচ্চারণ, বিভিন্ন গল্প, বেশিরভাগই সত্যিকারের ঘটনা” এবং ববি নিজেও নিজের অতীত, তরুণ বয়স, বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া এবং স্যালজবুর্গে কমা অবস্থায় থাকা বন্ধুর গল্প শেয়ার করেন, যিনি তার বহু সফরের মূল কারণ।
‘লন্ডন’ কে ডকুমেন্টারি এবং কাল্পনিক চলচ্চিত্রের মাঝখানে অবস্থানকারী একটি কাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি ইউরোপের আজকের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে, যেখানে অচেনা মানুষদের অস্থায়ী সাক্ষাৎগুলোই বৃহত্তর সামাজিক চিত্র গড়ে তোলে। গাড়ির ভেতরে ঘটে যাওয়া এই সংলাপগুলোকে ব্যবহার করে চলচ্চিত্রটি আধুনিক ইউরোপের বহুমাত্রিক পরিচয়কে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে।
চিত্রনাট্যটি স্টুডিওতে শুট করা হলেও, গাড়ির ভেতরের দৃশ্যগুলোকে বাস্তবসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে দর্শকরা গাড়ির জানালার বাইরে চলমান পৃথিবীর সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারেন। গাড়ির ভেতরের আলাপচারিতা, যাত্রীদের ব্যক্তিগত গল্প এবং ববির নিজস্ব অভিজ্ঞতা একত্রে মিশে একটি সমন্বিত বর্ণনা তৈরি করে, যা দর্শকের কাছে ইউরোপের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
‘লন্ডন’ এর বিশ্ব বিক্রয় কাজটি প্যানামা ভিত্তিক স্কোয়ার আইস্স কোম্পানি পরিচালনা করছে। চলচ্চিত্রের নির্মাতা দাভিদ বোহুন এবং লিক্সি ফ্রাঙ্ক, যারা পূর্বে ‘মুভমেন্টস অফ এ নেবি মাউন্টেন’ এবং ‘অ্যান্ড দেয়ার ওয় আর, ইন দ্য মিডল’ ইত্যাদি প্রকল্পে কাজ করেছেন, তারা এই নতুন কাজের জন্য বার্লিনের প্যানোরামা প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। থিয়েটার হোলিক্স রিভিউ (THR) ট্রেলারটি প্রথমবার প্রকাশ করেছে, যা চলচ্চিত্রের মূল থিম এবং ভিজ্যুয়াল স্টাইলের একটি ঝলক দেয়।
বার্লিন ফেস্টিভ্যালে ‘লন্ডন’ এর প্রদর্শনী অস্ট্রিয়ার সমসাময়িক চলচ্চিত্র নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক দর্শক ও সমালোচকরা এই কাজকে ইউরোপের সামাজিক গতিবিধি, পরিচয় এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়ার একটি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। চলচ্চিত্রটি কেবলমাত্র গাড়ির ভেতরে সীমাবদ্ধ না থেকে, ইউরোপের বিস্তৃত ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মানবিক সংযোগের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
‘লন্ডন’ এর থিম ও কাঠামো ভবিষ্যতে গাড়ি‑শেয়ারিং, মাইগ্রেশন এবং সামাজিক নেটওয়ার্কের পরিবর্তনশীল প্রকৃতিকে বুঝতে আগ্রহী দর্শকদের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। চলচ্চিত্রটি দেখার পর দর্শকরা আধুনিক ইউরোপের বিভিন্ন স্তরে গড়ে ওঠা মানবিক সম্পর্কের জটিলতা ও সৌন্দর্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করতে পারবেন। বার্লিনের প্যানোরামা প্রোগ্রামে এই কাজের উপস্থিতি, অস্ট্রিয়ান চলচ্চিত্র শিল্পের আন্তর্জাতিক মঞ্চে দৃঢ় অবস্থানকে পুনরায় নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ কাহিনীর প্রত্যাশা জাগিয়ে তোলে।



