দিল্লিতে বুধবার বিকাল ৫টায় লোকসভা অধিবেশন চলাকালীন বিশাল বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরিকল্পিত ভাষণ বাতিল করা হয়। সংসদের নিম্নকক্ষের এই ব্যাঘাতের মূল কারণ হল বিরোধী সংসদ সদস্যদের ধারাবাহিক প্রতিবাদ, যা সভাকে বহুবার মুলতবি করে দেয়।
সেই দিনটি শুরু হয় রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে একটি প্রস্তাব উপস্থাপনের মাধ্যমে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যের স্থান নির্ধারিত ছিল। তবে বিকাল পাঁচটার পর পুনরায় আলোচনা শুরু হলে, বিরোধী দলগুলো দ্রুত মঞ্চে উঠে প্রতিবাদ শুরু করে, যা সভার স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে।
বিরোধী সদস্যদের প্রতিবাদে স্পিকার ওম বিড়লা সভার শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সকল সদস্যকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে। তবুও, বিরোধী দলের প্রতিবাদ থামতে না পেয়ে ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে।
বিরোধী পার্লামেন্টাররা ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে আলোচনার অগ্রাধিকার দেন। এই বিষয়গুলোকে তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে, অধিবেশন আবারও দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
এরপর তেলুগু দেশম পার্টির সংসদ সদস্য কৃষ্ণপ্রসাদ টেনেটি অধিবেশনের পরিচালনা দায়িত্ব নেন। তিনি বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবেকে তার ভাষণ দেওয়ার অনুমতি দেন। নিশিকান্তের বক্তব্যে তিনি গান্ধী পরিবারকে অপমানের অভিযোগ তুলে, বিভিন্ন বইয়ের উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য উপস্থাপন করার দাবি করেন।
নিশিকান্তের এই মন্তব্যের পর স্পিকার দ্রুতই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং টেনেটি জানান, এ ধরনের বক্তব্যের অনুমোদন তিনি দিতে পারবেন না। স্পিকারের নির্দেশে এমন কোনো মন্তব্যকে সংসদে অনুমোদিত বলা যাবে না, এ কথা টেনেটি জোর দিয়ে বলেন।
বিরোধী সংসদ সদস্যরা নিশিকান্তের উক্তির তীব্র নিন্দা করেন এবং স্পিকারের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন জানান। ফলে অধিবেশন আবারও বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়, যাতে পরিস্থিতি শীতল হয়।
বিকাল পাঁচটার পর পুনরায় অধিবেশন শুরু হলে, প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। তবে বিরোধী দলও প্রস্তুত থাকে এবং তাদের প্রতিবাদ পুনরায় শুরু হয়।
সেশন পুনরায় চালু হলে, মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সন্ধ্যা রাই পরিচালনা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি প্রথমে পিপি চৌধুরীকে কথা বলার অনুমতি দেন, তবে বিরোধী সদস্যদের হট্টগোলের ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবারও সভা মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
বৈধভাবে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং সংসদীয় কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে, স্পিকারের নির্দেশনা এবং পার্লামেন্টের নিয়মাবলী অনুসরণ করা জরুরি। তবে আজকের ঘটনায় দেখা যায়, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক বিরোধের কারণে সংসদীয় প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সংসদে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয় করে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দেবে। সরকার এবং বিরোধী দল উভয়েরই উচিত সংসদীয় কাজের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে সহযোগিতা করা, যাতে দেশের শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে।



