প্রাক্তন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন জাহানারা আলমের অভিযোগের ওপর গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি, প্রাক্তন সিলেক্টর ও টিম ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামকে অনুপযুক্ত আচরণের প্রাথমিক প্রমাণে চিহ্নিত করেছে। এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) এক প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তদন্তের মূল লক্ষ্য ছিল জাহানারার উত্থাপিত চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা।
কমিটির কাজের ফলাফল দেখায়, চারটি অভিযোগের মধ্যে দুইটি যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে অবশিষ্ট দুইটি অভিযোগে মনজুরুলের বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে অনুপযুক্ত আচরণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই প্রমাণের ভিত্তিতে BCB তৎক্ষণাৎ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা বোর্ডের হেনস্থা ও অনৈতিক আচরণে শূন্য সহনশীলতা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটি এমন কিছু আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছে যা পেশাদার মানদণ্ডের বিরোধী এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকায় নির্ধারিত হেনস্থা ও অনুপযুক্ত আচরণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এই ধরনের আচরণকে বোর্ডের নীতি ও জাতীয় আইন উভয়েরই লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশ্য বক্তব্যে বলা হয়েছে, প্রমাণিত অনুপযুক্ত আচরণের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বোর্ডের এই পদক্ষেপটি ক্রীড়া জগতে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
কমিটির রিপোর্টে উল্লেখিত আচরণকে পেশাগত মানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তা হেনস্থা ও অনুপযুক্ত আচরণের সংজ্ঞার আওতায় পড়ে। এই পর্যবেক্ষণটি উচ্চ আদালতের ২০০৯ সালের রায়ের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত অভিযোগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি নতুন অভিযোগ কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন BCB ডিরেক্টর ও নারী শাখার চেয়ারপারসন রুবাবা দোয়লা। এই কমিটি অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত, ন্যায়সঙ্গত সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকবে।
নতুন কমিটির কাজের মধ্যে রয়েছে স্বাধীন অভিযোগ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা এবং বাধ্যতামূলক সচেতনতা প্রশিক্ষণ চালু করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো হেনস্থা বা অনুপযুক্ত আচরণ ঘটলে তা দ্রুত সনাক্ত ও মোকাবিলা করা যায়। এই উদ্যোগটি উচ্চ আদালতের ২০০৯ সালের রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ক্রীড়া সংস্থার অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে গুরুত্ব দেয়।
তদন্ত কমিটি মূলত ৮ নভেম্বর, ২০২২-এ তিনজন সদস্য নিয়ে গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দুইজন অতিরিক্ত সদস্যকে প্যানেলে যুক্ত করা হয়, যাতে তদন্তের ব্যাপ্তি ও গভীরতা বৃদ্ধি পায়। এই প্যানেলটি জাহানারা আলমের অভিযোগের সকল দিক বিশ্লেষণ করে যথাযথ নথি ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছে।
প্রায় তিন মাসের গভীর তদন্তের পর, কমিটি তার চূড়ান্ত রিপোর্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সমীপে উপস্থাপন করেছে। রিপোর্টে উল্লেখিত ফলাফল ও সুপারিশের ভিত্তিতে বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন থেকে এই ফলাফলের ভিত্তিতে আইনি দলকে কাজের নির্দেশ দেবে এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি, নতুন অভিযোগ কমিটি কার্যকরভাবে কাজ শুরু করেছে, যা ক্রীড়া জগতে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে হেনস্থা ও অনুপযুক্ত আচরণ রোধে এই ব্যবস্থা কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



