22 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরান সরকার নারীকে মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স প্রদান অনুমোদন করেছে

ইরান সরকার নারীকে মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স প্রদান অনুমোদন করেছে

ইরান সরকার বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে নারীরা এখন আইনগতভাবে মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স পেতে পারবে। এই সিদ্ধান্তটি দীর্ঘদিনের আইনগত অস্পষ্টতাকে শেষ করে এবং ট্রাফিক কোডে স্পষ্টতা আনে। অনুমোদনটি ইরান সরকারের প্রথম সহ-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের স্বাক্ষরে মঙ্গলবার গৃহীত হয় এবং জানুয়ারি শেষে ক্যাবিনেটের অনুমোদন পেয়েছে।

পূর্বে আইন স্পষ্টভাবে নারীদের মোটরবাইক বা স্কুটার চালানো নিষিদ্ধ করলেও বাস্তবে লাইসেন্স প্রদান করা হতো না। ফলে নারীরা দুর্ঘটনা ঘটলে, যদিও শিকারীই হন, তবুও তাদের ওপর আইনি দায় আরোপ করা হতো। এই ধারা বহু বছর ধরে নারীদের চলাচলকে সীমাবদ্ধ করে আসছিল।

মোহাম্মদ রেজা আরেফের স্বাক্ষরিত রেজল্যুশনে ট্রাফিক পুলিশকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এতে নারী আবেদনকারীদের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান, পুলিশ তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা আয়োজন এবং লাইসেন্স ইস্যু করা অন্তর্ভুক্ত। ইলনা সংবাদ সংস্থা জানায়, এই নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে ট্রাফিক পুলিশকে সরাসরি নারীদের লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এই পরিবর্তনটি ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিবাদ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদগুলি গত মাসে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত হয়ে সরকারবিরোধী দাবিতে রূপান্তরিত হয়। তেহরান সরকার জানিয়েছে যে এই অশান্তিতে ৩,০০০ এর বেশি মৃত্যু ঘটেছে, যার বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক।

সাইনা, ৩৩ বছর বয়সী এক বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্মচারী, যিনি ছয় মাস ধরে স্কুটার দিয়ে কাজের পথে যাতায়াত করতেন, নতুন ট্রাফিক আইনকে “বহু দেরি” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, নারীরা ইতিমধ্যে কয়েক মাস ধরে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল, তাই এই পরিবর্তনটি মূল সমস্যার সমাধান নয়। তার মতে, বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীদের ওপর বিভিন্ন সামাজিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। পাবলিক স্থানে চুল ঢাকা রাখতে হেডস্কার্ফ এবং ঢিলা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক, যা মোটরসাইকেল চালানোর সময় অতিরিক্ত কঠিনতা সৃষ্টি করে। তবু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক নারী এই নিয়ম ভঙ্গ করে গাড়ি চালাতে শুরু করেছে, এবং মোটরসাইকেল চালানো নারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

এই প্রবণতা বিশেষভাবে তীব্রতর হয় ২০২২ সালে মাহসা আমিনি নামের এক তরুণী নারীর কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যু ঘটার পর। তার মৃত্যুর ফলে নারীর অধিকার ও পোশাক সংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ জ্বলে ওঠে, এবং আরও বেশি নারী গোপনভাবে মোটরসাইকেল চালাতে শুরু করে।

নতুন রেজল্যুশন আইনগত দিক থেকে স্পষ্টতা এনে নারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে পারে, তবে এটি ইরানের দীর্ঘস্থায়ী লিঙ্গভিত্তিক সীমাবদ্ধতাকে সম্পূর্ণরূপে দূর করবে না। সরকারকে এখনো পোশাক সংক্রান্ত বিধি ও সামাজিক নিয়মের পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে নারীর চলাচল ও অধিকার সম্পূর্ণভাবে স্বীকৃত হয়। ভবিষ্যতে এই নীতি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা ইরানের রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments