২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট রোড আইল্যান্ড থেকে ওয়াশিংটন গমনকারী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভারতীয় নাগরিক বরুণ অরোরা (৩৮) নারী সহযাত্রীকে স্পর্শের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ঘটনাটি ফ্লাইটের অবতরণে নিকটবর্তী সময়ে প্রকাশ পায় এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে বিচার হয়।
অভিযুক্তের পাশের আসনে বসে থাকা নারী যাত্রী উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং মুহূর্তে ঘুম থেকে উঠে দেখেন অরোরা তার গায়ে বারবার হাত রাখছেন। তিনি বহুবার হাত সরিয়ে দিতে অনুরোধ করলেও অরোরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরোরা ঘুমের মাস্ক পরা অবস্থায় ঘুমের ভান করে ছিলেন এবং তবুও তিনি স্পর্শ চালিয়ে যান। ভুক্তভোগী নারী বারবার হাত সরিয়ে দেওয়ার পরেও তিনি হাত না সরিয়ে অব্যাহত রাখেন, ফলে তার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়।
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এর ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস এই ঘটনার তদন্তে যুক্ত হয়। বিশেষ সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ম্যাডিসন মুমা এবং সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি রাসেল এল. কার্লবার্গ রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আপত্তিকর আচরণ ও হেনস্থার অভিযোগে ফেডারেল জেলা আদালতে দায়ের করা হয়। আদালতের নথিপত্রে দেখা যায়, অরোরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভিসা বা অন্যান্য অনুমোদন পত্র ছাড়া অবস্থান করছিলেন।
মামলায় অরোরা দোষী সাব্যস্ত হন এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল শাস্তি নির্দেশিকা ও অন্যান্য আইনি বিষয় বিবেচনা করে সাজা নির্ধারণের কাজটি চলমান।
সাজা নির্ধারণের তারিখ ৭ মে নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে ফেডারেল জেলা আদালতের একজন বিচারক শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন। এই সময়ে অভিযুক্তের আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষ উভয়ই সংশ্লিষ্ট নথি ও যুক্তি উপস্থাপন করবেন।
এই মামলার পাশাপাশি, গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যে ৩৪ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক জাভেদ ইনামদারকে ২১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ইনামদার ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মুম্বাই থেকে লন্ডন গমনকারী ফ্লাইটে ১২ বছর বয়সী কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।
উভয় ঘটনার মাধ্যমে বিমান পরিবহনে যৌন হয়রানি ও হেনস্থার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোরদার হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে সতর্কতা বাড়াতে বলা হচ্ছে।
বিমান ভ্রমণের সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, এয়ারলাইনগুলোকে স্পষ্ট নীতি প্রণয়ন ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে, ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা ও আইনি সুরক্ষা প্রদান করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।
এই মামলায় বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আইনি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং ভুক্তভোগীর অধিকার রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।



