অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর, ডিউক অব ইয়র্ক এবং প্রিন্স, রয়্যাল লজ, উইন্টার্স থেকে রাতের অন্ধকারে সরিয়ে নরফোলের স্যান্ডরিংহ্যাম রিজার্ভে গমন করেছেন। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ৩০ কক্ষবিশিষ্ট এই প্রাসাদে বসবাসের পর, তিনি এখন শিরোনামহীন নাগরিকেরূপে নতুন ঠিকানায় বসতে যাচ্ছেন। স্থানান্তরের সময় তিনি শিরোনাম ত্যাগের পাশাপাশি প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফারগুসনের সঙ্গে ভাগ করা জীবনও শেষ করছেন।
অক্টোবর মাসে প্রকাশিত একটি ঘোষণায় জানানো হয়েছিল যে অ্যান্ড্রু শীঘ্রই রয়্যাল লজ ছেড়ে স্যান্ডরিংহ্যামের দিকে রওনা হবেন এবং তার শিরোনামগুলো বাতিল করা হবে। তবে বাস্তবায়নটি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত এবং অপ্রস্তুতভাবে ঘটেছে। মিডিয়ার রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে, রাত্রিকালীন গাড়ি ও ট্রাকের গুঞ্জনে তিনি প্রাসাদ ত্যাগ করেন, ফলে কিছু জিনিসপত্র এখনও ফেরত নিতে হবে।
স্থানান্তরের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে অ্যান্ড্রু এবং তার প্রাক্তন স্ত্রীর ওপর এপস্টেইন ফাইলের ধারাবাহিক প্রকাশের ফলে সৃষ্ট তীব্র জনসাধারণের নজরদারি উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি উইন্টার্সে ঘোড়া চালিয়ে গাড়ি থেকে হাত নাড়ার দৃশ্যগুলো মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছিল, যা তার অপরাধী সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের আলোচনার সময়ে অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ধরনের প্রকাশ্য উপস্থিতি শেষ করে, তাকে স্যান্ডরিংহ্যামের ওয়াড ফার্মে অস্থায়ীভাবে বসানো হবে, যেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হবেন।
এই স্থানান্তরটি রাজকীয় পরিবারের আর্থিক ব্যয় দিয়ে করা হবে, কোনো জনসাধারণের তহবিল ব্যবহার করা হবে না। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে, অ্যান্ড্রুকে এমন একটি পরিবেশে রাখা বেশি যুক্তিযুক্ত যেখানে তিনি নজরে থাকবেন, তবে একাকী নির্বাসনে না গিয়ে, সম্ভাব্য অস্বচ্ছ আর্থিক সহায়তার ঝুঁকি থেকে দূরে থাকবেন।
অ্যান্ড্রুর শিরোনাম ত্যাগের ফলে তিনি ডিউক অব ইয়র্কের পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এবং তার নাম থেকে ‘মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর’ অংশটি সরিয়ে ‘অ্যান্ড্রু’ হিসেবে রেজিস্টার করা হবে। এই পরিবর্তন তার সরকারি দায়িত্ব এবং রাজকীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নির্দেশ করে, যদিও তিনি এখনও রাণীর ভাই হিসেবে পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, এই পদক্ষেপটি রাণী এবং রাজপরিবারের জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা জনমতকে শান্ত করার পাশাপাশি অ্যান্ড্রুর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি স্যান্ডরিংহ্যামের প্রাসাদে সীমিত জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন এবং তার পূর্বের ভূমিকা ও দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন থাকবেন।
অ্যান্ড্রুর রয়্যাল লজ থেকে ত্যাগ এবং শিরোনাম ত্যাগের ঘটনা ব্রিটিশ রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ গঠন ও জনসাধারণের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশেষত, কীভাবে রাজপরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোকে সামগ্রিক প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার জন্য সামঞ্জস্য করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সামগ্রিকভাবে, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসরের রয়্যাল লজ থেকে নরফোলের স্যান্ডরিংহ্যামে রাতারাতি স্থানান্তর, শিরোনাম ত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ বাসস্থানের ব্যবস্থা রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ নীতি ও জনমত পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



