শ্রীলঙ্কা, টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক, গ্রুপ বি-তে সুপার ইটের শীর্ষে পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছে। এই দলটি বর্তমান আইসিসি টি২০ আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে এবং টুর্নামেন্টের শুরুর ম্যাচগুলোতে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের লক্ষ্য রাখে। গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল, আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দল, জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল এবং ওমানের দল রয়েছে, যা শ্রীলঙ্কার জন্য সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ উভয়ই তৈরি করে।
শ্রীলঙ্কা দলের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ওপেনার পাথুম নিসান্কা তার ধারাবাহিকতা এবং উচ্চ স্ট্রাইক রেটের জন্য পরিচিত, আর স্পিনার ওয়ানিন্দু হসারাঙ্গা দলের প্রধান বলারূপে কাজ করেন। হসারাঙ্গা শুধু লেগ-স্পিনার নয়, তিনি দলের মূল অল-রাউন্ডার হিসেবেও মূল্যবান। উভয় খেলোয়াড়ই শ্রীলঙ্কার আক্রমণাত্মক কৌশলের মূল স্তম্ভ।
পাথুম নিসান্কা টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০০ রানের দশম দ্রুততম অর্জনকারী হিসেবে রেকর্ডে আছেন। তিনি ৮৪টি ম্যাচে গড়ে ৩০ের উপরে গড় এবং ১২৭.২৫% স্ট্রাইক রেট বজায় রেখেছেন। সাম্প্রতিক ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিনটি সিরিজে তিনি ৮০ রান সংগ্রহ করে ১৪৮.১৪% স্ট্রাইক রেট অর্জন করেন, যা তাকে টি২০ ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে স্থাপন করেছে। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বিপক্ষে তার দশটি ইনিংসে স্ট্রাইক রেট ১০৮, যা তার আক্রমণাত্মক পদ্ধতির ইঙ্গিত দেয়।
ওয়ানিন্দু হসারাঙ্গা টি২০ ফরম্যাটে উচ্চ র্যাঙ্কের স্পিনার হিসেবে পরিচিত। তার বোলিং গড় এবং ইকোনমি শ্রীলঙ্কার বলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হসারাঙ্গা দলের অল-রাউন্ডার হিসেবে ব্যাটিংয়ে অবদান রাখেন, যা তাকে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তনশীল ভূমিকা নিতে সক্ষম করে।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বর্তমানে দ্বিতীয় র্যাঙ্কে রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরের পর তাদের ফর্মে অবনতি দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ও বোলিং উভয়ই পূর্ণ শক্তিতে নেই, যা শ্রীলঙ্কার জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। দলটি টুর্নামেন্টের শুরুর পর্যায়ে পূর্ণ শক্তি না থাকায় গ্রুপ বি-তে অপ্রত্যাশিত ফলাফল হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বর্তমান স্কোয়াডে ক্যাপ্টেন মিচেল মার্শ, শীর্ষ বোলার জশ হ্যাজলউড, এবং সবসময় আক্রমণাত্মক স্বভাবের গ্লেন ম্যাক্সওয়েল অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের মধ্যে রয়েছে জ্যাভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনলি, টিম ডেভিড, বেন ডোয়ারশুইস, ক্যামেরন গ্রিন, নাথান এলিস, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইনগ্লিস, ম্যাথিউ কুহনেম্যান, ম্যাথিউ রেনশো, মার্কাস স্টয়িনিস এবং আদাম জ্যাম্পা। এই তালিকা গ্রুপের প্রতিযোগিতার মাত্রা নির্দেশ করে।
শ্রীলঙ্কার স্কোয়াডে ক্যাপ্টেন দাসুন শানাকা, ওপেনার পাথুম নিসান্কা, কেমিল মিশরা, কুসাল মেন্ডিস এবং অন্যান্য মূল খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত। দলের মধ্যে হসারাঙ্গা ছাড়াও অন্যান্য বোলার ও ব্যাটসম্যানের সমন্বয় রয়েছে, যা গ্রুপের প্রতিটি ম্যাচে বহুমুখী কৌশল প্রয়োগের সুযোগ দেয়।
গ্রুপ বি-তে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দল এবং জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলও অংশগ্রহণ করছে, যদিও তাদের র্যাঙ্কিং শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় নিচু। ওমানের দলও গ্রুপে রয়েছে, যা সম্ভাব্য অপ্রত্যাশিত ফলাফলের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এই তিনটি দলই শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ওঠার সুযোগ পেতে পারে।
গ্রুপের ম্যাচগুলো টুর্নামেন্টের শুরুর সপ্তাহে নির্ধারিত, এবং শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া উভয়েরই প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রয়োজন। গ্রুপের ফলাফল সরাসরি সুপার ইটের সেমিফাইনালে প্রবেশের সম্ভাবনা নির্ধারণ করবে, তাই প্রতিটি দলই শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। শ্রীলঙ্কার জন্য এই গ্রুপটি বড় সুযোগ, তবে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ফর্মের অনিশ্চয়তা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।



