রাশিয়া ও চীনকে যুক্ত করে গড়ে ওঠা মস্কো‑বেইজিং মৈত্রী বিশ্ব নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, এ কথা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি একটি সমাবেশে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে দুই দেশের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক।
পুতিন রাশিয়া এবং চীনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রের সমন্বয়কে প্রশংসা করে এটিকে দীর্ঘমেয়াদী ও কৌশলগত সম্পর্ক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই মৈত্রী উভয় দেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে।
কয়েক দিন আগে, দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন যে রাশিয়া‑চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এই বছর ‘নতুন যুগে প্রবেশ’ করবে। তারা জোর দিয়েছেন যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা হবে এবং নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধা বাড়ানো হবে।
কূটনৈতিক নোটে উল্লেখ করা হয়েছে যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শক্তি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্পগুলোকে বিস্তৃত করা হবে। উভয় পক্ষই এ ধরনের সহযোগিতা উভয় দেশের শিল্প ও অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।
২০২২ সালের শুরুর দিকে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মস্কো চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার দিকে ঝুঁকেছে।
পশ্চিমের সমালোচনা সত্ত্বেও রাশিয়া চীনের কাছ থেকে অপরিহার্য পণ্য, প্রযুক্তি এবং কূটনৈতিক সমর্থন পেতে থাকে। এই সহযোগিতা রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে চীন রাশিয়ার জন্য এখন কেবল বাণিজ্যিক অংশীদার নয়, বরং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে তার গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়া বিকল্প বাজার ও সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়েছে।
দুই সরকারই জোর দিয়ে বলেছে যে তাদের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশের বিরোধী নয়, বরং পারস্পরিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এ ধরনের অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে উভয় দেশের স্বকীয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
বক্তব্যে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের কথাও উঠে এসেছে, যার মধ্যে আঞ্চলিক ফোরামে সমন্বয়, তথ্য শেয়ারিং এবং সামরিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। এই ধরনের সমন্বয় উভয় দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করে।
বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে মস্কো‑বেইজিং মৈত্রী বিশ্ব শক্তি সমীকরণে প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়ার ওপর আরোপিত চাপের কার্যকারিতা সীমিত করতে পারে। এই মৈত্রী আন্তর্জাতিক নীতি গঠনে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।
ভবিষ্যতে নতুন বাণিজ্য চুক্তি, যৌথ অবকাঠামো প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় সমন্বিত অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় দেশই এ ধরনের পদক্ষেপকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখছে।
মস্কো‑বেইজিং মৈত্রীের ধারাবাহিকতা অন্যান্য দেশের কূটনৈতিক হিসাবকে প্রভাবিত করবে, বিশেষ করে যারা রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে চায়। এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন কৌশলগত বিকল্প তৈরি করবে।



