বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা হাতিরঝিলে অ্যাস্ফিথিয়েটারে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে দলের আসন্ন ইশতেহার সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়ে দেন, শুক্রবার দলের চূড়ান্ত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ হবে, যেখানে ভোটারদের চাহিদার চেয়েও বেশি উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের বিস্তারিত থাকবে।
সমাবেশে তিনি উল্লেখ করেন, গত সতেরো বছর বিদেশে থাকলেও তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন নিয়ে ক্রমাগত চিন্তা করেছেন এবং বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দেশকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতা তারেকেরই আছে। তিনি আওয়ামী লীগকে দেশের আর্থিক অবস্থা খারাপ করার দায়িত্বে অভিযুক্ত করে বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশকে নিঃস্ব করে দিয়েছে, এখন এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে টেনে তোলার একমাত্র ক্ষমতা তারেকেরই”।
নজরুল ইসলাম অভিজ্ঞ নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “যদি বাড়ির কাজের লোকের জন্যও অভিজ্ঞতা দরকার হয়, তবে দেশের শাসনের জন্য অভিজ্ঞ নেতাকে কেন না বেছে নেওয়া হবে”। তিনি ভোটারদের আহ্বান করেন, “দেশ বাঁচাতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের শীর্ষে ভোট দিতে হবে”।
বস্তিবাসী উচ্ছেদের প্রশ্নে তিনি বলেন, বিরোধীরা বস্তিতে নতুন বিল্ডিং করে উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে, তবে “কেউ সারা জীবন বস্তিতে থাকতে চায় না”। তিনি নিশ্চিত করেন, বিএনপি বস্তিবাসীর জন্য স্থায়ী সমাধান হিসেবে পাঁচ হাজার ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র আগে থেকেই প্রদান করবে।
নারী নিরাপত্তা সম্পর্কেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান এবং রাস্তায় যাতায়াতের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে”। এছাড়া, পরিবহন শ্রমিকদের জন্য সরকারী ভর্তুকি দিয়ে বিমা ব্যবস্থা চালু করার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিপক্ষ জামায়াত-এ-ইসলামির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যখন আমরা ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষি কার্ডের কথা বলি, তারা চুরি হবে বলে সমালোচনা করে, অথচ এখন তারা স্মার্ট কার্ডের কথা বলছে”। তিনি আরও যোগ করেন, “লাল-সবুজ বাসের অনুকরণে তারা এখন লাল রং বাদ দিয়ে সবুজ গাড়ি চালাচ্ছে, যা কোনো সমস্যা নয়”।
শিল্প খাতের উন্নয়নকে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল বলে তিনি জোর দেন। তিনি বলছেন, “শিল্প বাঁচলে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে এবং দেশ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে”।
নজরুলের বক্তব্যের পর সমাবেশে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও সামাজিক সেবা সম্পর্কে আশাবাদ প্রকাশ করেন। ইশতেহার প্রকাশের আগে দলের এই ঘোষণাকে ভোটারদের কাছে নীতি ও কর্মসূচি স্পষ্ট করার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপির ইশতেহার প্রকাশের পর নির্বাচনী প্রচারণা তীব্র হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তবে দলটি এখনো তার পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।



