বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বুধবার বিকেলে ফরিদপুরে নির্বাচনী জনসমাবেশে ঘোষণা করেন, যদি দল সরকারে আসে তবে ফরিদপুরকে নতুন বিভাগে রূপান্তর করা হবে। একই অনুষ্ঠানে তিনি ফরিদপুরের চারপাশে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা শুষ্ক মৌসুমে জলের ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৃহৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন জনগণের সমর্থন ছাড়া সম্ভব নয়; সমর্থন থাকলে বিএনপি যেকোনো বড় কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।
তারা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা ও শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে ফরিদপুরের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে চায়, যাতে স্থানীয় মানুষ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আত্মসম্মান বজায় রেখে জীবনযাপন করতে পারে। নারী উন্নয়নের দিকে দৃষ্টিপাত করে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্ধেক নারী গোষ্ঠী যদি পিছিয়ে থাকে তবে দেশের অগ্রগতি থেমে যাবে; এজন্য প্রত্যেক গৃহিণীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যা দরিদ্র পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সহায়তা করবে।
বিএনপি-র এই পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে ব্যারেজ প্রকল্পের আর্থিক ব্যয় এবং বিভাগ গঠনের প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। তারা উল্লেখ করেছে, নির্বাচনী সময়ে এমন বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই ছাড়া করা হলে ভোটারদের বিভ্রান্তি বাড়তে পারে। তবে দলীয় নেতারা দাবি করে, এইসব প্রকল্পের মাধ্যমে ফরিদপুরের অবকাঠামো ও সামাজিক সেবা উন্নত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভোটারদের উপকারে আসবে।
তারেক রহমানের ফরিদপুর সফরটি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত হয়, যা তারেকের জন্য প্রথমবারের মতো এই জেলায় সরাসরি উপস্থিতি। তিনি বারিশালের একটি সমাবেশ শেষ করে দুপুর ২:৪০ টায় হেলিকপ্টার দিয়ে ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন, এরপর ৩ টার দিকে জনসভায় অংশ নেন। তার উপস্থিতি স্থানীয় নেতাদের এবং পার্টি কর্মীদের মধ্যে উৎসবের পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে ব্যানার, ফেস্টুন এবং সেকেন্ডারি রোডে মিছিলের মাধ্যমে হাজারো সমর্থক একত্রিত হয়।
সামগ্রিকভাবে, তারেকের ঘোষণাগুলো বিএনপি-র নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তারা প্রশাসনিক পুনর্গঠন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা জয় করার চেষ্টা করছে। পরবর্তী সপ্তাহে পার্টি এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে আরও বিশদে তুলে ধরবে এবং নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ চালিয়ে যাবে।



