৪ ফেব্রুয়ারি বুধবারের সকালবেলায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পাটাহদ কয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের সাধারণ কক্ষের আশেপাশে বোরকা পরিহিত অবস্থায় এক কিশোরকে শিক্ষার্থীরা সন্দেহজনকভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখেন। তার অস্বাভাবিক চলাফেরার কারণে শিক্ষার্থীরা তাকে থামিয়ে শিক্ষককে জানায়।
শিক্ষার্থীদের জানাতে গিয়ে কিশোরকে অস্থায়ীভাবে আটক করা হয় এবং দ্রুতই শিক্ষকগণ বিদ্যালয়ে পৌঁছান। শিক্ষকরা বোরকা খুলে কিশোরের পরিচয় জানেন। তিনি ১৬ বছর বয়সী এবং পাটাহদ কয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, আটক হওয়া কিশোর গত বছর একই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। সেমিস্টার শেষে তিনি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হন। বর্তমানে তিনি জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি।
প্রধান শিক্ষক আরও উল্লেখ করেন, কিশোরের বোরকা পরিধানের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কোনো বিশেষ নির্দেশনা বা অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তাই শিক্ষার্থীদের সতর্কতা অনুসরণ করে তাকে আটক করা হয়।
মাদারগঞ্জ থানা থেকে ওয়েসি শাকের আহমেদ ঘটনাস্থলে দ্রুত ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চালু করা হয়েছে।
থানার ওসি জানান, কিশোরের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ না থাকলেও তার অস্বাভাবিক আচরণ এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা বিবেচনা করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। অভিযোগ দায়ের হলে মামলাটি স্থানীয় আদালতে দাখিল করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে কিশোরের পরিবার, পূর্ববর্তী বিদ্যালয় এবং বর্তমান বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পুলিশ কিশোরের বোরকা পরিধানের পেছনের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য সহায়তা গোষ্ঠী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে।
শিক্ষা বিভাগের স্থানীয় অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে অনধিকার প্রবেশ রোধে প্রবেশদ্বার পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অধিক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে। বর্তমানে কিশোরটি থানায় রাখা হয়েছে এবং তার আইনগত অধিকার রক্ষা করা হবে।
এই ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে কাজ করে নিশ্চিত করবে যে শিক্ষার পরিবেশ নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ থাকে।



