সরকারি বিদ্যুৎ ক্রয় দরে সাম্প্রতিক হ্রাসের ফলে বার্ষিক প্রায় ১১৯ কোটি টাকা সঞ্চয় হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপটি তিনটি সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ক্রয় দরে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ২১ পয়সা পর্যন্ত কমিয়ে বাস্তবায়িত হবে। সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তটি ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারী ক্রয় পরামর্শ কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে।
পরামর্শ কমিটি, যা সরকারী বিদ্যুৎ ক্রয় নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে, বৈঠকে তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ক্রয় দরে হ্রাসের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এই হ্রাসের লক্ষ্য হল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ক্রয় ব্যয় কমিয়ে বাজেটের চাপ হ্রাস করা এবং বিদ্যুৎ বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
প্রথমে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আশুগঞ্জ কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের (২০১২ সালে চালু, ২৫ বছরের চুক্তি) বিদ্যুৎ ক্রয় দরে ২১ পয়সা হ্রাস করে প্রতি কিলোওয়াটে টাকার হার টাকার ৫.৭৬ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে পরবর্তী ১৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ক্রয় ব্যয় বছরে প্রায় ১৯.২৫ কোটি টাকা কমবে, এবং মোট ক্রয় পরিমাণ প্রায় টাকার ১,৫৯৩ কোটি হবে।
দ্বিতীয়টি হল ৩৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সিধিরগঞ্জ কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট, যা ২০১৯ সালে উৎপাদন শুরু করে। এখানে বিদ্যুৎ ক্রয় দরে ১০ পয়সা হ্রাস করে প্রতি কিলোওয়াটে টাকার হার টাকার ৫.৪২ নির্ধারিত হয়েছে। এই হ্রাসের ফলে পরবর্তী ১৬ বছর ধরে বার্ষিক সঞ্চয় প্রায় টাকার ৬৩ কোটি হবে।
তৃতীয়টি হল ৪১২ মেগাওয়াট ক্ষমতার হরিপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট, যা ২০১৪ সালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (JICA) এর আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত। এখানে বিদ্যুৎ ক্রয় দরে ২১ পয়সা হ্রাস করে প্রতি কিলোওয়াটে টাকার হার টাকার ৪.৭৫ নির্ধারিত হয়েছে। এই হ্রাসের ফলে চুক্তির বাকি ১৪ বছর পর্যন্ত বছরে টাকার ৩৭ কোটি সঞ্চয় হবে।
উপরোক্ত তিনটি প্রকল্পের সমন্বয়ে মোট সঞ্চয় প্রায় টাকার ১১৯ কোটি হবে, যা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বার্ষিক ক্রয় ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করে। এই সঞ্চয় সরকারকে অন্যান্য উন্নয়নমূলক খাতে তহবিল পুনর্বিন্যাসের সুযোগ দেবে এবং বিদ্যুৎ সেক্টরের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
বিদ্যুৎ ক্রয় দরের এই সমন্বয় বিদ্যুৎ বাজারে সরবরাহকারী ও ক্রেতার মধ্যে মূল্য কাঠামোকে পুনর্গঠন করবে বলে আশা করা যায়। ক্রয় দরের হ্রাসের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি বজায় রাখতে সক্ষম হবে, একইসাথে সরকারী সংস্থাগুলি কম দরে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে বাজেটের চাপ কমাতে পারবে।
তবে, হ্রাসকৃত দরের সময়সীমা চুক্তির বাকি মেয়াদে সীমাবদ্ধ, ফলে ভবিষ্যতে নতুন ক্ষমতা যুক্ত করার সময় দরের পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগের শর্তাবলী ও দরের কাঠামো পুনরায় নির্ধারণের ঝুঁকি বিদ্যুৎ সেক্টরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, সরকারী ক্রয় দরের হ্রাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ব্যয় হ্রাস এবং বাজেটের আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নতুন ক্ষমতা ও দরের নীতি সমন্বয় করা আবশ্যক। এই পদক্ষেপটি বিদ্যুৎ সেক্টরের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



