২০২৬ সালের শীতকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উইমেনস সুপার লিগের প্রধান ক্লাবগুলো তাদের নতুন নিয়োগ ও ছাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুলের সক্রিয় কাজের পর চেলসির হতাশাজনক ফলাফলকে কেন্দ্র করে, প্রতিটি দলে কী কী পরিবর্তন হয়েছে তা এখানে বিশদভাবে উপস্থাপন করা হল।
আর্সেনালের ক্ষেত্রে, জুনে বহু সিনিয়র খেলোয়াড়ের চুক্তি শেষ হওয়ায় গ্রীষ্মের বড় পুনর্গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তাই এই উইন্ডোতে তারা তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল, তবে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ করা হয়েছে। ডান ব্যাক পজিশনে হ্যামারবির স্মিলা হোলমবার্গকে স্বাক্ষর করে ভবিষ্যতের মূল খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এছাড়া স্লাভিয়া প্রাগের বারবোরা ভোটিকোভারকে শেষ মুহূর্তে ঋণাভিত্তিক গার্ড হিসেবে নিয়ে দলকে ব্যাকআপ গলকিপার নিশ্চিত করেছে।
আর্সেনালের কিছু খেলোয়াড় অন্য ক্লাবে গিয়েছে। জেন্না নিগসওয়াঙ্গারকে অ্যাস্টন ভিলায় ঋণ দিয়ে, এবং লায়লা হারবার্টকে এভারটনে ঋণ দিয়ে তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেটি ম্যাকবের সঙ্গে চুক্তি বাড়ানো না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দলের পুনর্গঠন কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
অ্যাস্টন ভিলার ট্রান্সফার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ দেখা গেছে। চেলসির তরুণ ডিফেন্ডার ওরিয়ান জঁ-ফ্রাঁসোয়াকে প্রায় £৪৫০,০০০ ফি দিয়ে অর্জন করা হয়েছে, যা ক্লাবের আক্রমণাত্মক শক্তি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আর্সেনাল থেকে জেন্না নিগসওয়াঙ্গারকে ঋণ দিয়ে দলকে মিডফিল্ডে বিকল্প প্রদান করা হয়েছে। বিক্রয়ের দিক থেকে, ইংল্যান্ডের উইং কেটি রোবিনসনকে ব্রিস্টল সিটিতে বিক্রি করে আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে, এবং স্যারাহ মেলিংকে লেস্টারে ঋণ দিয়ে তরুণ খেলোয়াড়ের বিকাশে সহায়তা করা হয়েছে।
ব্রাইটনের ট্রান্সফার উইন্ডোতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল ফ্রান কির্বির উপস্থিতি। ৩২ বছর বয়সী ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফরোয়ার্ড ইউভেন্তুসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি ক্লাবে থেকে গেছেন। কির্বি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং লিভারপুল উভয়ই এই উইন্ডোতে সক্রিয়ভাবে নতুন খেলোয়াড় যুক্ত করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। যদিও নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করা হয়নি, উভয় ক্লাবের কাজকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে চেলসির ট্রান্সফার কার্যক্রমে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জিত হয়নি, যা ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রশ্ন তুলেছে।
আর্সেনাল গ্রীষ্মে জর্জিয়া স্ট্যানওয়ের ফ্রি ট্রান্সফার সম্পন্ন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্লাবের সূত্র অনুযায়ী, স্ট্যানওয়ের সঙ্গে চুক্তি শেষ করার সম্ভাবনা ইতিবাচক, যা আক্রমণাত্মক লাইনকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে, কেটি ম্যাকবের চুক্তি বাড়ানো না করার সিদ্ধান্ত দলকে নতুন মুখ দিয়ে পুনর্গঠন করার সুযোগ দেবে।
অ্যাস্টন ভিলার নতুন নিয়োগগুলোকে দলীয় গঠন ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়েছে। ওরিয়ান জঁ-ফ্রাঁসোর আগমন মিডফিল্ডে সৃজনশীলতা যোগ করবে, আর নিগসওয়াঙ্গারের ঋণাভিত্তিক যোগদান ব্যাকলাইনকে সমর্থন করবে। বিক্রয় ও ঋণ চুক্তিগুলো আর্থিক দিক থেকে ক্লাবকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
ব্রাইটনের ক্ষেত্রে, ফ্রান কির্বির সঙ্গে চুক্তি না হওয়া সত্ত্বেও, ক্লাবের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশগ্রহণের জন্য শক্তিশালী স্কোয়াড গঠন করা রয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ ট্রান্সফার উইন্ডোতে সম্ভাব্য নতুন নামের সন্ধান চালিয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, এই ট্রান্সফার উইন্ডোতে আর্সেনাল পুনর্গঠনের পথে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়েছে, অ্যাস্টন ভিলা বড় বাজেট নিয়ে নতুন খেলোয়াড় যুক্ত করেছে, এবং ব্রাইটন মূল খেলোয়াড়কে ধরে রাখার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। পরবর্তী ম্যাচে এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা শীঘ্রই দেখা যাবে।



