মার্কিন শেয়ারবাজারে মঙ্গলবারের সেশনে মূল সূচকগুলো মন্দার মুখে পড়ে, আর স্বর্ণ ও রূপার দাম তীব্র লেনদেনে পুনরুদ্ধার দেখায়। একই সময়ে তেল মূল্যে ঊর্ধ্বগতি এবং শাটডাউন শেষের জন্য গৃহীত আইন সত্ত্বেও ওয়াল স্ট্রিটের সূচকগুলো নিচের দিকে নেমে আসে।
স্বর্ণের দাম এক দিনের মধ্যে সাত শতাংশের বেশি বাড়ে, তবে সেশনের শেষে প্রায় ৪,৯৫০ ডলার প্রতি আউন্সে স্থিত হয়। গত সপ্তাহে দাম ৫,৬০০ ডলারের কাছাকাছি রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছিল, পরে হ্রাস পেয়ে এই স্তরে ফিরে আসে।
IG ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের বিশ্লেষক এক্সেল রুডলফ উল্লেখ করেন, স্বর্ণের এই উত্থান ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ দৈনিক লাভের দিকে ইঙ্গিত করে, কারণ দুই দিনের মধ্যে দাম তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছিল।
রূপার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, মঙ্গলবারে ৮৬ ডলারে পৌঁছে, যা ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। তবে এটি গত সপ্তাহে প্রায় ১২০ ডলারের রেকর্ড স্তরের তুলনায় এখনও নিচে।
বাজার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, মূল্যবান ধাতুর লেনদেনের পর শান্তি ফিরে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের নিম্ন মূল্যে ক্রয় করার সুযোগ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় স্বর্ণ ও রূপাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনার প্রবণতাকে শক্তিশালী করে।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো অস্থিরতা দেখায়; ডাও জোনস নতুন সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর আবার নিচের দিকে নেমে আসে। নাসডাক কম্পোজিট প্রায় পুরো সেশন জুড়ে নেগেটিভ থাকে এবং শেষমেশ ১.৪ শতাংশ হ্রাস পায়।
টেক সেক্টরের শেয়ারগুলোতে রোটেশন শুরু হয়েছে, যা বছরের শুরুতে শুরু হওয়া প্রবণতার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। বিশ্লেষক প্যাট্রিক ও’হেয়ার উল্লেখ করেন, গত বছর ও কয়েক বছর ধরে টেক সেক্টর শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তবে এখন বাজারে ত্রুটির জন্য খুব কম জায়গা বাকি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরে একটি ব্যয় বিল আইনগতভাবে কার্যকর হয়েছে, যা মার্কিন সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে তহবিল সরবরাহ করে এবং শাটডাউন শেষের জন্য সময় বাড়ায়। এই পদক্ষেপটি আইনসভা সদস্যদের মধ্যে চলমান ব্যয় নিয়ে আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় দেয়।
বৈধতা নিয়ে আলোচনায় বাধা সৃষ্টি হয়েছিল, যখন মিনিয়াপোলিসে দুইজন আমেরিকান নাগরিকের মৃত্যু ঘটায়, যা ফেডারেল এজেন্টদের দ্বারা সংঘটিত হয়। এই ঘটনা ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে তীব্র করে, যা বর্তমানে মার্কিন সরকারের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয়।
সারসংক্ষেপে, স্বর্ণ ও রূপার দাম পুনরুদ্ধার দেখালেও, শেয়ারবাজারের সামগ্রিক পারফরম্যান্স মন্দার মুখে। তেল মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শাটডাউন সমাপ্তির জন্য গৃহীত আইন বাজারে মিশ্র প্রভাব ফেলেছে, আর টেক সেক্টরে রোটেশন ভবিষ্যৎ প্রবণতা নির্দেশ করে।



