বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দল আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ভারত ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বুধবারের ঘোষণায় প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেডারেশন (আইসিসি) কর্তৃক নির্ধারিত এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ছিল, তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে দলটি অংশ নিতে পারবে না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর এই কঠিন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। দলীয় কর্মী, খেলোয়াড় ও সহায়ক স্টাফের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না পারলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ঝুঁকি বাড়ে, এ কারণেই ভ্রমণ বাতিল করা হয়।
বিসিবির সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহুদ্দিন এই সিদ্ধান্তের পর একটি সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন, “এটি আমাদের জন্য বড় ধাক্কা, এবং এই সুযোগটি মুছে ফেলা কঠিন”। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের জন্য এই বাদ পড়া একটি গভীর হতাশা, যা সহজে অতিক্রম করা যাবে না।
খেলোয়াড়দের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ হারিয়ে যাওয়া মানসিকভাবে কঠিন। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করা মানে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, উচ্চ মানের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়া এবং র্যাঙ্কিং পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা রয়েছে, এবং পূর্ববর্তী টুর্নামেন্টে দলটি ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তাই এই বাদ পড়া শুধুমাত্র বর্তমান টুর্নামেন্টের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির জন্যও একটি বড় ধাক্কা।
বিসিবি এই সিদ্ধান্তের পর দলীয় প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে, খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে দেশীয় পর্যায়ে শিবির চালু করার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্বকাপটি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ভারতীয় শহরগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ১৬টি দল অংশ নেবে। টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী প্রথম ম্যাচগুলো ১ নভেম্বর থেকে শুরু হবে, এবং চূড়ান্ত ম্যাচ ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, অন্যান্য শক্তিশালী দলগুলো এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে, যার মধ্যে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা রয়েছে। প্রতিটি দলই শিরোপা জয়ের জন্য প্রস্তুত, এবং টুর্নামেন্টের গুণগত মান উচ্চ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের র্যাঙ্কিং পয়েন্টে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি স্বল্পমেয়াদে টিমের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। আইসিসি র্যাঙ্কিং সিস্টেমে টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, এবং এই সুযোগ না পেলে র্যাঙ্কিংয়ে সম্ভাব্য পতন ঘটতে পারে।
বিসিবি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করবে। কোচ সালাহুদ্দিন উল্লেখ করেছেন, “আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসব, তবে আমাদের প্রস্তুতি কখনো থামবে না”। দলটি আগামী সিরিজ ও দেশীয় লিগে মনোযোগ দিয়ে পারফরম্যান্স উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
সংক্ষেপে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে, যা খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের জন্য বড় মানসিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে দলটি দেশীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ চালিয়ে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকবে।



