ড. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর, আজ লালমনিরহাটের হাতিবন্ধা এলাকায় অনুষ্ঠিত র্যালিতে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ভোটকে ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি “লাল কার্ড” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ভোট শুধুমাত্র একটি সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য জনগণের সিদ্ধান্ত।
র্যালিটি লালমনিরহাট ও নিলফামারী জেলার জামায়াত-এ-ইসলামি শাখাগুলোর যৌথ উদ্যোগে টিস্তা ব্যারেজের হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজন করা হয়। আশেপাশের গ্রাম ও শহর থেকে বিশাল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন, যা অঞ্চলের রাজনৈতিক উন্মাদনা ও অংশগ্রহণের মাত্রা প্রকাশ করে।
ড. শফিকুর রহমান সমাবেশে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠেছে এবং আর ছদ্মবেশী রাজনীতিবিদদের প্রতারণা সহ্য করবে না। তিনি ‘মাস্কধারী রাজনীতিবিদ’ শব্দটি ব্যবহার করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের অবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নকে দেশের “কৃষি রাজধানী” হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তিনি র্যালিতে ঘোষণা করেন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টিস্তা মেগা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বুরিমারী ল্যান্ড পোর্টকে আধুনিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গেটওয়ে রূপে রূপান্তর অন্তর্ভুক্ত।
মহিলা ভোটারদের উদ্দেশ্যে ড. শফিকুর রহমান ন্যায়বিচারভিত্তিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যা নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় অপরিহার্য। তিনি পুরুষ ও নারীর সমন্বিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করতে পারে।
রাজনীতিকে ব্যবসা বা লুটের হাতিয়ার না বলে তিনি জোর দেন, এবং সংকটের সময় দেশে না থেকে বিদেশে গিয়ে থাকা নেতাদের জনগণের বিশ্বাসের যোগ্যতা নেই বলে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান জানান।
ড. শফিকুর রহমান ভবিষ্যতে নেতৃত্বকে তরুণ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যাতে সৎ, দক্ষ ও ত্যাগশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের উদ্যমই দেশের রাজনৈতিক জীবনে সততা ও কার্যকারিতা আনবে।
তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি নতুন সূর্যোদয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভোটের ফলাফলই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তিনি দেশের মানুষের হৃদয়ে আশ্রয় খোঁজার কথা বলেন, বিদেশে না গিয়ে নিজের দেশের নাগরিকদের সঙ্গে একাত্মতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতির মধ্যে টিস্তা মেগা প্রকল্পের দ্রুত অগ্রগতি, কৃষি পণ্যের ন্যায্য দামের ব্যবস্থা এবং বুরিমারী ল্যান্ড পোর্টকে আধুনিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গেটওয়ে রূপে রূপান্তর অন্তর্ভুক্ত। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় সমৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্য তিনি প্রকাশ করেন।
ড. শফিকুর রহমানের শেষ মন্তব্যে তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের সমর্থনে ভোটারদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিতে আহ্বান জানান, যাতে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা জনগণের হাতে থাকে এবং শোষণমুক্ত শাসন নিশ্চিত হয়।



